রোজায় ১০ লাখ পরিবার পাবে মাংস ও দুধ

২৫টি স্থানে বিক্রি হচ্ছে

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭ এএম

বাজারের চেয়ে কম মূল্যে দুধ, ডিম ও গরু-মুরগির মাংস বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পুরো রমজান মাসে ১০ লাখ পরিবার সুবিধাভোগী হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। গতকাল বৃহস্পতিবার মহাখালীর প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন কক্ষে রমজান মাসে বিক্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

জানা গেছে, এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ ৬৫০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস, ২৪৫ টাকা কেজি দরে ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি, ৮ টাকা পিস হিসেবে ফার্মের মুরগির ডিম এবং ৮০ টাকা লিটার হিসেবে গরুর দুধ বিক্রি করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। যেখানে বাজারে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস, জ্যান্ত ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, ৯ থেকে ১০ টাকা পিস হিসেবে ফার্মের ডিম এবং ৯০ থেকে ১০০ টাকা লিটার হিসেবে দুধ বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে উদ্বোধনের দিনে সকাল থেকেই এসব পণ্য বিক্রির ঘোষণা দিলেও কোথাও কোথাও বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর খামারবাড়িতে সকাল ১০ টাকা সুলভ মূল্যের পণ্যের ফ্রিজিং ভ্যান আসার কথা ছিল। সে অনুযায়ী মানুষ এর আগে থেকেই খামারবাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু এই পণ্য বিক্রির গাড়ি এসেছে দুপুর ১২টায়। এতে করে বিভিন্ন স্থানে মানুষের ভোগান্তিও হয়েছে।

এদিকে পণ্য কিনতে আসা মানুষগুলোর মধ্যে কম দামে গরুর মাংস কেনায় আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। প্রতিটি গাড়ি থেকে একেকজনকে এক কেজি করে গরুর মাংস কিনতে পারছেন। এ ছাড়া একটি মুরগি, এক লিটার দুধ এবং এক থেকে দুই ডজন ডিম কিনতে পারছেন। রাজধানীর মোট ২৫টি পয়েন্টে এই পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, একেকটি গাড়িতে ৭০ কেজি গরুর মাংস, ৮০ লিটার দুধ, ৮০টি মুরগি এবং ১ হাজার ২০০ পিস ডিম দেওয়া হয়েছে বিক্রির জন্য। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, প্রথম দিন পরিমাণ কম থাকলেও দ্বিতীয় থেকে আরও বেশি গরুর মাংস দেওয়া হবে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫টি স্থানের মধ্যে সচিবালয়ের পাশে (আবদুল গনি রোড), খামারবাড়ি (ফার্মগেট), ষাট ফুট রোড (মিরপুর), আজিমপুর মাতৃসদন, নয়াবাজার (পুরান ঢাকা), উত্তরা হাউস বিল্ডিং, রামপুরা বাজার, হাজারীবাগ, আরামবাগ (মতিঝিল), কালশী (মিরপুর), মানিকনগর গলির মুখ (যাত্রাবাড়ী), শাহজাদপুর (বাড্ডা), কড়াইল বস্তি (বনানী), কামরাঙ্গীরচর, খিলগাঁও (রেলক্রসিং দক্ষিণ), নাখালপাড়া (লুকাস মোড়), সেগুনবাগিচা (কাঁচাবাজার), মোহাম্মদপুর (বাবর রোড), মোহাম্মদপুর (বসিলা), কাকরাইল, বনশ্রী, মিরপুর-১০, কল্যাণপুর, তেজগাঁও ও বঙ্গবাজার। এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ বিক্রির জন্য স্থায়ী স্পট নির্ধারণের মাধ্যমে বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে বলে জানা গেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, রমজান উপলক্ষে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য (দুধ, ডিম, মাংস ) সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় সারা দেশে প্রায় ১০ লক্ষাধিক পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই এ দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করলে নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট বেড়ে যায়। নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সততা, নিষ্ঠা ও সমন্বিত টিমওয়ার্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর সভাপতি মশিউর রহমান, বাংলাদেশ ক্যাটল অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএফএফএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত