কে হচ্ছেন স্পিকার

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০১ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কে হতে যাচ্ছেন স্পিকার? এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানান আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা। সরকার গঠন করার পর ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবে বিএনপি। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার নির্বাচন করতে হবে দলটিকে। যাকেই নির্বাচন করা হোক, তিনি হবেন জাতীয় সংসদের ১৩তম স্পিকার।

এর আগে বিএনপি সরকার গঠন করার পর পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদে স্পিকার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আইনজীবীদের মধ্য থেকে। এবারও যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন আইনজীবী। তিনি আদালত অঙ্গনের পরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। এর বাইরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বিরোধীদলীয় সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘এ বিজয় গণমানুষের প্রত্যাশার বিজয়। আমি বাবুগঞ্জ-মুলাদীবাসীর আস্থা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। নদীভাঙন রোধ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

জয়নুল আবেদীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়া ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনজীবী হিসেবে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান আমাকে নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছি। এখন যেকোনো দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি প্রথমত নির্ভর করছে মহান আল্লাহতায়ালার ওপর। দ্বিতীয়ত নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর। চেয়ারম্যান যে দায়িত্বই দেবেন, সেই দায়িত্ব পালন করব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৪৭। নরসিংদী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঈন খান একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। তার বাবার নাম আবদুল মোমেন খান। মোমেন খান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এবার নিয়ে ছয়বারের সংসদ সদস্য। এর আগে তিনি ধারাবাহিকভাবে ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ, ১৯৯৬ সালে জুন মাসে সপ্তম, ২০০১ সালে অষ্টম ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার : গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জেতার ফলে দেশের শাসনব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হবে। দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। বিরোধী দল থেকে কে ডিপুটি স্পিকার হবেন তা সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঠিক করবে।

এবার সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের বিজয়ী সংসদ সদস্যরা। তাদের মধ্যে ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় আছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। আছে মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমানের নামও। তবে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনা বেশি।

শপথের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরার বাসায় যান। এরপর তিনি যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাকরাইলের বাসায়। সেখানে তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা।

বিগত দিনে বিএনপি যাদের স্পিকার নির্বাচন করেছিল : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে চতুর্থ জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন মির্জা গোলাম হাফিজ।

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে পঞ্চম সংসদে শেখ রাজ্জাক আলীকে স্পিকার নিয়োগ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে অষ্টম জাতীয় সংসদে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ধানের শীষের প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে। অন্যদিকে ভোটের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি, জামায়াত ৬৮, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি করে আসনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন সাতটি আসনে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল ঘোষণা করেনি ইসি। আসনগুলোতে বিএনপি প্রার্থীরা বেশি ভোট পেয়েছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত