দুটি দলই এবারের টুর্নামেন্টে শিরোপার প্রধান ফেবারিট তালিকায় নেই। তবু ক্রিকেটবিশ্ব জানে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড, দুই দলই এমন প্রতিপক্ষ যারা এক মুহূর্তের মধ্যেই যে কোনো বড় দলকে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সেই দুদলের মুখোমুখি হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব।
গ্রুপ পর্বে একাধিকবার অস্থিরতা ও চাপের মুখে পড়লেও পাকিস্তান শিবির এখন আত্মবিশ্বাসী। দলের অন্যতম অলরাউন্ডার শাদাব খান স্পষ্ট করেই বলেছেন, তাদের লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপ জয়। নামিবিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বড় জয় পাওয়ার পর শাদাব বলেন, ভারতের বিপক্ষে হারের পর দল যে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটা ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে শাদাব ২২ বলে ৩৬ রানের দ্রুত ইনিংস খেলার পাশাপাশি নেন ৩ উইকেট। ওই ম্যাচেই পাকিস্তান নিশ্চিত করে সুপার এইটে তাদের শেষ টিকিট। শাদাবের ভাষায়, ‘আমরা বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যেই সঠিক পথে এগোচ্ছি। আমরা একটা প্রক্রিয়া মেনে চলছি।’
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, সুপার এইট পর্ব আগের যে কোনো ধাপের চেয়ে কঠিন হবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর পাকিস্তানকে খেলতে হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ড ও স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। শাদাব বলেন, ‘এখানে আটটি শক্তিশালী দল খেলছে। প্রতিটি ম্যাচই হবে উচ্চচাপের।’
নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে না থাকায় বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। যদিও প্রথম তিন ম্যাচে তিনি প্রতিটিতেই উইকেট পেয়েছিলেন, তবু রান খরচ বেশি হওয়ায় তাকে বসিয়ে রাখা হয়। তার জায়গায় খেলেন বাঁহাতি পেসার সালমান মির্জা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সুপার এইট ম্যাচে শাহিনের ফেরা নিয়ে আলোচনা থাকলেও দল ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, পাকিস্তান বড় পরিবর্তনে যেতে নাও পারে। অর্থাৎ আগের ম্যাচের একাদশ অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি।
নিউজিল্যান্ড গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে কানাডার বিপক্ষে ৮ উইকেটের জয় দিয়ে। এর আগে তারা গ্রুপসেরা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তবে আফগানিস্তান ও আমিরাতের বিপক্ষে বিপক্ষে জয় তাদের সুপার এইটের পথ সহজ করে দেয়।
নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ও মূল স্পিনার মিচেল স্যান্টনার** অসুস্থতার কারণে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারেননি। ওই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেন ড্যারিল মিচেল। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে স্যান্টনারের ফেরা প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে। কলম্বোর ধীরগতির উইকেটে স্পিন বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে কিউই শিবির। সে কারণে একাদশে বাড়তি স্পিন বিকল্প হিসেবে ইশ সোধিকে দেখা যেতে পারে।
নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডার ব্যাটার মার্ক চ্যাপম্যান ম্যাচের আগে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণ, বিশেষ করে উসমান তারিককে ঘিরেই তাদের প্রস্তুতির বড় অংশ। চ্যাপম্যান বলেন, ‘উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন বেশ আলাদা। সে যেভাবে ক্রিজে এসে থেমে বল করে, সেটা আমাদের পরিকল্পনায় রাখতে হচ্ছে।’
২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০টি দ্বিপাক্ষিক ম্যাচ খেলেছে নিউজিল্যান্ড। সেই অভিজ্ঞতাকেই বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন চ্যাপম্যান। তার ভাষায়, ‘পাকিস্তান এমন একটি দল, যাদের বিপক্ষে আমরা গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি খেলেছি। তারা কী ধরনের আক্রমণ নিয়ে আসে, সেটা আমরা ভালোভাবেই জানি। এখন আসল বিষয় হলো দল হিসেবে আমরা কীভাবে খেলতে চাই, সেটা পরিষ্কার রাখা।’
চ্যাপম্যান স্বীকার করেছেন, ভারতের উইকেটের তুলনায় শ্রীলঙ্কার উইকেট অনেক ধীর। ফলে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের কৌশলেও পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভারতে বিশেষ করে লাল মাটির উইকেটে ব্যাটিং বেশ সহজ ছিল। অনেক ম্যাচেই ২০০ রানের কাছাকাছি স্কোর দেখা গেছে। এখানে উইকেট ধীর, তাই বোলাররা নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পেতে পারে।’ তার মতে, কলম্বোয় স্পিনাররাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রক শক্তি হতে পারে।
সুপার এইট পর্বে নিজেদের তিনটি ম্যাচই কলম্বোয় খেলবে নিউজিল্যান্ড। ভেন্যু পরিবর্তনের ঝামেলা না থাকাকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন চ্যাপম্যান। তিনি বলেন, ‘এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে গিয়ে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা যেহেতু একই মাঠে খেলছি, প্রতিটি ম্যাচ থেকে শিখে পরের ম্যাচে সেটার ব্যবহার করতে পারব।’
নিউজিল্যান্ড শিবিরে আরেকটি আলোচনার বিষয় পেসার লকি ফার্গুসন। পারিবারিক কারণে ছুটিতে থাকায় তিনি দলের বাইরে ছিলেন। চ্যাপম্যান জানিয়েছেন, ফার্গুসন এখন ফেরার পথেই আছেন। তবে লম্বা ভ্রমণের পর তার ফিটনেস কেমন থাকে, সেটাই দেখার বিষয়।
