ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে নাকি দেশটিতে হামলা চালানো হবে, তা আগামী ১০ দিনের মধ্যে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, আগামী সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যে বিশ্ব জানতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেবে। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে গাজা বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী সভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা সম্পর্কে আরও বলেন, আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে অন্যথায় খারাপ ঘটনা ঘটবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি গুঁড়িয়ে দিতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটন এ অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনসহ অত্যাধুনিক এফ-৩৫ ও এফ-২২ র্যাপ্টর স্টিলথ যুদ্ধবিমানের বিশাল এক বহর পাঠিয়েছে।
ট্রাম্পের মূল মাথাব্যথা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে। তিনি বারবার বলেছেন, তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে, ইউরেনিয়ামও সমৃদ্ধ করতে দেওয়া হবে না। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে অগ্রগতির কথা জানিয়েছিল দুপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে মার্কিন কর্মকর্তাদের। ট্রাম্প জানান, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খুব ভালো কিছু বৈঠক’ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থবহ চুক্তি করা সহজ নয়। যদি তা না হয়, তবে খারাপ কিছু ঘটবে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনকে জানান, সামরিক বাহিনী এ সপ্তাহ শেষেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
তবে ডেমোক্রেটিক আইন প্রণেতারা এবং কিছু রিপাবলিকান-কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট রো খান্না এবং কেনটাকির রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে আগামী সপ্তাহে কংগ্রেসে ভোটাভুটির চেষ্টা করবেন। রো খান্না বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হবে বিপর্যয়কর। ৯০ মিলিয়নের এই দেশটির শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে এই প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এর আগে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে একই ধরনের একটি প্রস্তাব আটকে দিয়েছিল রিপাবলিকানরা। এদিকে, ইরানে সম্ভাব্য হামলায় সহায়তা করার জন্য ব্রিটিশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বলে জানতে পেরেছে বিবিসি। এর আগে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের ‘আরএএফ (রয়্যাল এয়ারফোর্স) ফেয়ারফোর্ড’ বিমানঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ড দিয়েগো গার্সিয়াও ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসকে হস্তান্তর এবং সেখানে থাকা যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি লিজ নেওয়ার চুক্তি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। কিন্তু যুক্তরাজ্য তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সম্প্রতি এ চুক্তির সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, নিয়মানুসারে আমরা সামরিক অভিযান-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে মন্তব্য করি না।