মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কুয়াকাটা পৌরসভা প্রাঙ্গণে গেট বন্ধ থাকায় শহদীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নির্ধারিত সময়ে ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে ফুল হাতে বাইরে অপেক্ষা করে তারা। এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে বাধ্য হয় তারা।
তবে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনার পর পর তাদের লোক চাবি নিয়ে উপস্থিত হয়।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা পর এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে দেখা দেছে যে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা কুয়াকাটা পৌরসভা গেটের সামনে ফুল হাতে অপেক্ষা করছে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অপেক্ষার পর কুয়াকাটা পৌরসভা প্রাঙ্গণের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যান অনেকেই।
কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, প্রতি বছরের নেয় ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে আমরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য যাই, কিন্তু কুয়াকাটা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের এই গাফেলতি এবং অবহেলায় আমরা হতবাক হয়েছি। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় জাতীয় দিবস পালনে অবহেলা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
ফুলের তোরা হাতে কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফাইনান্স সেক্রেটারি মো. রাসেল খান বলেন, কুয়াকাটা পৌর ভবনের মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনার টিকে কুয়াকাটাবাসী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মনে করে। এর ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসে সবাই। কিন্তু এবছর পৌরসভার গেট বন্ধ থাকায় আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারিনি।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা(টোয়াক) সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন একটি সর্বজনীন কর্মসূচি। গেট বন্ধ রাখার মাধ্যমে সবার সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, আমাদের জেলা থেকে নির্দেশ রয়েছে উপজেলা প্রশাসনে আমরা সকলে মিলে একসাথে ফুল দিতে। তাই প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কুয়াকাটা পৌরসভার সকল স্টাফরাও কলাপাড়া উপজেলায় রয়েছে। তবে সাড়ে ১১টার সময় পৌরসভার গেট বন্ধ এমন ফোন পেলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চাবি নিয়ে স্টাফকে পাঠিয়ে দেই।
