কুড়িগ্রামের উলিপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দুই অসহায় নারী। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক চিহ্নিত ব্যক্তি ঘরটি নিজের দাবি করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালান। ঘটনার পর এলাকায় সৃষ্টি হয় থমথমে পরিস্থিতি।
পুলিশ জানায়, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান বাবুকে একটি কুড়ালসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তাকে পরবর্তীতে উলিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিনের বসবাস, হঠাৎ উচ্ছেদের হুমকি
উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মুসল্লীপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন মৃত নাইবালীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও শামসুল হকের স্ত্রী মোমেলা বেগম। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি মাহমুদুল হাসান বাবু ঘর দুটি নিজের বলে দাবি করে তাদের সরে যেতে চাপ সৃষ্টি করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার ছেলে হারুন রামদা ও কুড়াল নিয়ে আশ্রয়ণে গিয়ে হামলার চেষ্টা চালান। এতে নারী ও শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্তের ছেলে হারুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকিমূলক ভিডিও পোস্ট করেন।
স্থানীয়দের দাবি, বাবু ও তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে আসছেন এবং মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত। তবে বাবু গ্রেপ্তার হলেও তার ছেলে হারুন এখনও পলাতক। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
নামাজের চর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদুল হাসান বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে থানায় পাঠানো হয়েছে।
উলিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
