নেত্রকোনায় ছাদ ধসে নিহত শ্রমিকদের পরিবার পেল সরকারি অনুদান

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

নেত্রকোনায় বিএডিসি সেচ বিভাগের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ ধসে তিন শ্রমিক নিহত হওয়ার ছয় মাস পর তাদের পরিবারকে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেক পরিবার পেয়েছে দুই লাখ টাকা, আর আহত তিন শ্রমিকের প্রত্যেকে পেয়েছেন ২৫ হাজার টাকা।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের নাগড়া বিএডিসি সেচ বিভাগের সেমিনার কক্ষে এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান। চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক ও কিশোরগঞ্জ সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পঙ্কজ কর্মকার।

এর আগে গত বছরের ১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার (১৫ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিহতদের পরিবারের এবং আহত দুজনের জন্য ২৫ হাজার করে অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছিলো। এছাড়াও ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার করে এবং আহতদের প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার করে তাৎক্ষণিক অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।  

তবে ঠিকাদারের গাফিলতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটলেও তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়ে গেছে নিহতদের স্বজনদের। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও পরে আর এই তদন্তের হদিস মিলেনি। 

এদিকে চেক নেয়ার সময় নিহত শ্রমিক দিপুর বাবা আব্দুল সাদেক জানান, একমাত্র কামাই রোজগারের ছেলে ছিলো দিুপু। সে স্ট্রোক করার কারণে কাজ করতে পারেন না। এখন মেয়েরা কামাই করে সংসার চালায়। ওই ঘটনায় ঠিকাদারের সাথে স্থানীয়রা ৮০ হাজার টাকায় মীমাংসা করে তখন তাদের থানায় নিয়ে স্বাক্ষর দিয়ে মামলা তুলে নিতে হয়েছিলো। তারমধ্যে ছেলের বউকে ৫০ হাজার টাকা ও আমরা সবাই ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ছেলের বিচার আর পাইনি। 

নিহতরা হলেন, সদরের পলাশহাটি গ্রামের দিপু মিয়া (৪০), হলুদআটি গ্রামের মো. হান্নান মিয়া (৪০) ও আটপাড়া উপজেলার অভয়পাশা গ্রামের মো. ছালাম মিয়া (৪০)।

জানা গেছে, গত মার্চ মাসে সাবাইকে ৫ লক্ষ টাকায় মেসার্স আল মোবারক হোসেন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরাতন পরিত্যাক্ত ভবনটি ক্রয় করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত