নড়াইলে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে আটক ৬

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে বাবা ছেলেসহ নিহত চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সোয়া ৪টার দিকে খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ এবং একই দলের ফেরদাউস হোসেনের সিঙ্গাশোলপুর কবরস্থানে এবং অপরপক্ষে নিহত ওসিকুর ফকিরের পৈত্রিক নিবাস একই ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের কবরস্থানে  দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এসময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চারজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর বেলা ২টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। এসময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। 

এদিকে হত্যাকান্ডের শিকার খলিল শেখ ও ফেরদাউস হোসেনের স্বজনরা জানান, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়েরের লোকজন অতর্কিতভাবে তাদের লোকজনের উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ৩জনকে হত্যা করে। নিহত তাহাজ্জত শেখের স্ত্রী সুমী বেগম  বলেন, সোমবার ভোর রাতে আমরা সেহেরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তারাপুর গ্রাম থেকে আসা ও আমাদের গ্রামের প্রতিপক্ষরা মিলে কমপক্ষে ৫০-৫৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে আমার শ্বশুর খলিল শেখ ও স্বামী তাহাজ্জতকে ঘর থেকে বের করে নেয়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপুর্যপুরি শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এছাড়া আমাদের প্রতিবেশি ও পক্ষের ফেরদাউসকেও একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। আমার স্বামীকে মেরে ফেলায় আমার ৩টি সন্তান এতিম হয়ে গেলো।

তাহাজ্জতের বোন রিম্পা খানম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার বাবা খলিল শেখ ও ভাইকে প্রতিপক্ষ খায়ের চেয়ারম্যানের লোকজন হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার চাই। নিহত ফেরদাউসের স্ত্রী রাবেয়া বেগম তার ৪মাস বয়সী মেয়ে রাফসানাকে কোলে নিয়ে কান্নাজড়িতকন্ঠে বলেন, আমার পাঁচ সন্তান এতিম হয়ে গেলো। তাদেরকে ভালোবাসা দেয়ার আর কেউ থাকলো না। ফেরদাউসের প্রবাসী ভাই রুবেল শেখ বলেন, আমার ভাইকে হত্যাকারিরা আগে থেকেই এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত। তাদের অন্যায় কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে তারাপুর গিয়ে দেখা যায় গ্রামটি পুরুষশূণ্য। নিহত ওসিকুর ফকিরের স্বজনরা হাউমাউ করে কাঁদছেন। ওসিকুরের চাচাতো বোন সোহাগী জানান, খলিল শেখের ছেলেরা ও তার ভাই হাবিলের ছেলেরা এলাকায় মারামারিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত। তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে গিয়ে আমার ভাই ওসিকুরসহ বাড়ির নারীদের প্রায়ই খুন জখম ও লুটপাটের হুমকি ধামকি দিতো। আমাদের লোকজন তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সন্ত্রস্ত  থাকতো। খলিলসহ তার ছেলেরা ও তার ভাই হাবিলের ছেলেরা খারাপ প্রকৃতির। এ জন্য তারাপুর গ্রাম ছেড়ে অনেক বছর ধরে তারা বড়কুলা গ্রামে গিয়ে বসবাস করছে। ওসিকুরের মা মহির নেসা জানান, খলিল ও তার লোকজন আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তারা হত্যাকান্ড ঘটানোর পরও বাড়িতে অবস্থান করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নড়াইল সদর থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে সোমবার ভোরে বাবা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আশা করি ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত  আটক করা সম্ভব হবে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনও এজাহার জমা দেয়া হয়নি। এজাহার জমা দিলে মামলা রু্জ্জু করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত