রমজানে ম্যান সিটির মুসলিম ফুটবলারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩ এএম

রমজান মাসে বিশ্বজুড়ে মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা করছেন। ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম দলে বর্তমানে চারজন মুসলিম খেলোয়াড় আছেন—রায়ান আইত–নুরি, আবদুকদির খুসানোভ, ওমর মারমুশ ও রায়ান শেরকি। রোজার সময় সূচি, পুষ্টি ও ম্যাচ পরিচালনায় তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখছে ক্লাব।

শনিবার লিডস ইউনাইটেডের মাঠ এল্যান্ড রোডে ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা বিকেল পাঁচটা ত্রিশে। সূর্যাস্তের সময় কাছাকাছি হওয়ায় প্রথমার্ধে সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে রোজা ভাঙার সুযোগ দেওয়া হতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়েরা সাইডলাইনে গিয়ে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করবেন। ম্যাচের দিন সকালে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা।

ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, “তারা তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য মেনে চলে। আমাদের পুষ্টিবিদেরা আছেন, তারা দলের প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নেন। প্রিমিয়ার লিগের কিক–অফের সময় আমরা বদলাতে পারি না। খেলোয়াড়েরা অভ্যস্ত—এ সময়টায় তারা আগেও খেলেছে, তারা জানে কীভাবে সামলাতে হয়।”

ক্লাবের সঙ্গে ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে কাজ করছে মুসলিম চ্যাপলিনস ইন স্পোর্ট সংগঠন। প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ইসমাইল ভামজি নিয়মিত খেলোয়াড় ও স্টাফদের সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষা, হালাল খাবার সংক্রান্ত নির্দেশনা ও রমজানের তাৎপর্য নিয়ে কর্মশালা করেন। তিনি বলেন, “আমরা ব্যাখ্যা করি রমজান কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনে এর উল্লেখ আছে, এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। যারা রোজা রাখেন, পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে কীভাবে তা সামলে দায়িত্ব পালন করবেন—সেটিও বোঝানো হয়।”

খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়েও পরামর্শ দেন ইমাম ইসমাইল। তাঁর ভাষায়, “মানুষ কখনো পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিষয়ে দিকনির্দেশনা চায়। আমরা গোপনীয়তা বজায় রেখে সহায়তা করি।”

রমজান শেষে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে মার্চের বিশ বা একুশ তারিখে। তার ঠিক পরদিন ওয়েম্বলিতে কারাবাও কাপের ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি। শিরোপা জিততে পারলে সেটিই হতে পারে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য সেরা ঈদের উপহার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত