উত্তেজনা, গ্রেপ্তার আর পাল্টাপাল্টি বিজ্ঞপ্তির পর অবশেষে সমঝোতার পথে হাঁটছে বরিশালের আদালত অঙ্গন। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল আইনজীবী সমিতি ১ মার্চ থেকে আদালত বর্জন প্রত্যাহার করে কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। এই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার সমিতির সভাপতি অ্যাড. এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনের জামিন রবিবার কিংবা সোমবারের মধ্যে হতে পারে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। তবে এই সমাধানের পথ মোটেও সহজ ছিল না; প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে আইনমন্ত্রী পর্যন্ত ছুটতে হয়েছে আইনজীবীদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে জমে ওঠা বরফ গলতে শুরু করেছে। গত দুদিন ধরে দফায় দফায় বৈঠকের পর এই সমঝোতার বার্তা এলো শনিবার।
গত সোমবার বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। এই জামিনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার আদালত বর্জন ও বিক্ষোভে নামেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। দুপুরে তারা অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করে বিচারকাজ বন্ধ করে দেন। এই ঘটনার নেতৃত্ব দেন সমিতির সভাপতি লিংকন নিজেই। পুরো ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
পরদিন বুধবার মহানগর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। একই দিন গ্রেপ্তার হন সমিতির সভাপতি অ্যাড. লিংকন। এর পর থেকেই আদালত অঙ্গন অস্থির হয়ে ওঠে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি অ্যাড. মহসিন মন্টু জানান, আইনজীবীরা বৈঠকে বসে আদালত বর্জন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সভাপতির গ্রেপ্তার, মামলাসহ অন্যান্য বিষয়ে বিচারকদের সঙ্গে সম্পর্ক শান্তিপূর্ণভাবে ফিরিয়ে আনার পথ খোঁজা হচ্ছে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকদের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা হয়েছে। সব পক্ষের রাগ-ক্ষোভ দূর করতে সমঝোতা তো করতে হবেই।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. জয়নুল আবেদিন প্রধান বিচারপতি এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। সব কিছু সুষ্ঠুভাবে এগোলে রবিবার অথবা মঙ্গলবারের মধ্যে সভাপতি লিংকনের জামিন হতে পারে।
বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, ‘আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ঢাকা থেকে নীতিনির্ধারকরা এই সমঝোতা করছেন। এর ফলে আদালত বর্জন স্থগিত হয়েছে এবং সভাপতি লিংকনের জামিন হয়ে যাবে। বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে যাতে দূরত্ব না থাকে, সে লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
এই পুরো পরিস্থিতিতে ভিন্ন সুর তুলেছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও এজলাস ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা জানান এবং আদালত বর্জনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. ওবায়দুল্লাহ সাজু স্বীকার করেন, বিবৃতি দেওয়া ৬৫ আইনজীবী আওয়ামী ঘরানার।