সাশ্রয়ে ফুটপাত, স্বাচ্ছন্দ্যে অনলাইন

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে জমে উঠেছে কেনাকাটা। শপিংমল ও ফুটপাতের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বেড়েছে ক্রেতার চাপ।  তবে দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে তুলনামূলক ভোগান্তি কম হলেও অনেক ক্ষেত্রে দাম বেশি, আর ফুটপাতে দাম কম হলেও ভোগান্তি একটু বেশি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা কম দামে পোশাক কিনতে ফুটপাতেই বেশি ভিড় করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, দোকানভাড়া বা শোরুম খরচ না থাকায় তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারেন। ফলে দরদাম করে কম দামে কেনার সুযোগও থাকে।

তবে ফুটপাতে কেনাকাটায় রয়েছে নানা ভোগান্তি। তীব্র গরম, অতিরিক্ত ভিড়, যানজট, নিরাপত্তাহীনতা এবং পছন্দের পণ্য খুঁজে পেতে সময় নষ্টএসব কারণে অনেক ক্রেতাই অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া পণ্যের মান যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত এবং পরিবর্তন বা ফেরত দেওয়ার সুবিধাও প্রায় নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঘরে বসেই অর্ডার করার সুবিধা থাকায় ভোগান্তি তুলনামূলক কম। কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে সময় বাঁচানো, বিভিন্ন পণ্যের তুলনা করার সুযোগ এবং হোম ডেলিভারির সুবিধা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।

তবে অনলাইনে দাম অনেক সময় ফুটপাতের তুলনায় বেশি পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পণ্যের ছবি ও বাস্তবের মিল না থাকা, ডেলিভারিতে দেরি কিংবা রিটার্ন প্রক্রিয়ার জটিলতাও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর নিউ মার্কেট, গুলিস্তানসহ, পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার বিভিন্ন ফুটপাতের দোকানে সকাল থেকেই ভিড়। শার্ট, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ থেকে শুরু করে জুতা-স্যান্ডেল সবই মিলছে তুলনামূলক কম দামে।

রাজধানীর নিউ মার্কেট, গুলিস্তান ও পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার আশপাশের ফুটপাতগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। শার্ট ৪৫০-৮০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৭০০-১২০০ টাকা এবং বাচ্চাদের পোশাক ৩০০ টাকার মধ্যেও মিলছে বলে জানান বিক্রেতারা। সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০০-১৫০০ এর মধ্যে কেনাকাটা করতে পারছেন ক্রেতারা।

অন্যদিকে অনলাইন বাজারে চলছে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ক্যাম্পেইন। বিভিন্ন ই-কমার্স ও ফেসবুকভিত্তিক শপে দেওয়া হচ্ছে ছাড়, ক্যাশব্যাক ও ফ্রি ডেলিভারির অফার। একসঙ্গে দুইটা ড্রেস নিলে থাকছে ডেলিভারি চার্জ ফ্রি। বিভিন্ন অনলাইন পেজগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কাপড়ের মূল্য দ্বিগুণ এবং সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা থেকে কাপড়ের দাম শুরু আর সর্বোচ্চ সংখ্যা ৫ এর ঘরে। ঈদ উপলক্ষে অনলাইনে বিভিন্ন কালেকশনের সমাহার লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ক্রেতারা পাকিস্তানি ইন্সপায়ার্ড ড্রেস কিনতে বেশি আগ্রহী।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইন থেকে ড্রেস কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। এক ক্রেতা তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘এত টাকা দিয়ে কাপড় কিনে আনলাম কিন্তু কাপড়টা ছেঁড়া এবং দেখে মনে হচ্ছে কয়েকবার ব্যবহার করে ওয়াশ করে দিয়েছে।’

তাছাড়া আরেকটি অনলাইন পেজের কমেন্ট বক্সে দেখা যায়, একজন ক্রেতা লিখেছেন কাপড়ের জন্য বিকাশ করেছি অনেক দিন হয়েছে কিন্তু কোনো রেসপন্স নেই। লাইভ শেষে অর্ডার নিয়ে আর কোনো রিপ্লাই করা হয় না।

আবার কিছু কিছু অনলাইন ক্রেতারা মনে করেন, ঘরে বসে পণ্য বাছাইয়ের সুবিধা, একাধিক দোকানের দামের তুলনা এবং সময় বাঁচানোর কারণে অনলাইন কেনাকাটা অনেকের কাছে লাভজনক মনে হচ্ছে।

পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে ফুটপাতের কাপড় বিক্রেতা ফারহানা বলেন, ‘আমাদের দোকানভাড়া কম, বিদ্যুৎ বিল নেই, তাই কম লাভে বিক্রি করতে পারি। ক্রেতারাও দরদাম করে খুশি মনে নিচ্ছেন। আর আমার এখানে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা দামে কাপড় পাওয়া যাচ্ছে এবং বিক্রি ভালো হচ্ছে।’

বাচ্চার জন্য কাপড় কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, ‘একই ডিজাইনের জামা শোরুমে ২ হাজার টাকা, এখানে ৫০০-৬০০ টাকায় পেয়েছি। একটু খুঁজলেই সাশ্রয় হয়। এখানে কম দামে অনেক ভালো ভালো কাপড় পাওয়া যায়। অনলাইনে কাপড় অনেক দাম এবং যেমন কাপড় দেখায় বাস্তবে তা মেলে না।’

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘ক্লাস ও কাজের ব্যস্ততায় বাজারে যাওয়ার সময় পাই না। অনলাইনে তুলনা করে কিনতে পারি, এতে সময় বাঁচে। আর পরিচিত পেজগুলো থেকেই কাপড় কিনতে পছন্দ করি। অপরিচিত পেজ থেকে কাপড় কিনতে একটু ভয় হয় কারণ অনেক সময় ঠিকঠাক কাপড় তারা দেয় না।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত