দাদিকে খুন করে নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। হত্যাকান্ডে শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিহত কিশোরীর প্রতিবেশী এবং পেশায় ট্রাকচালক। শরীফ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, শ্লীলতাহানিতে বাধার কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেই তিনি সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং তার নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৫) খুন করেন। নিহত কিশোরী দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

গতকাল রবিবার পাবনা ডিবি পুলিশ ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শরীফকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

গ্রেপ্তার শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি জামিলাদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে যান। ওই সময় সুফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন তিনি। কিশোরী জামিলা ক্ষুব্ধ হয় এবং শরীফকে চড় মারে। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে শরীফ কৌশলে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। দাদি সুফিয়া খাতুন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় জোরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর জামিলা চিৎকার দিলে শরীফ হাতুড়ি ও বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে অচেতন করে ফেলেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় জামিলাকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি গমক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন এবং সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় জামিলার ফুপু মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত