খামেনি হত্যার মোক্ষম জবাব দেওয়ার ঘোষণা হিজবুল্লাহর

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:০২ এএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি এবং বেশ কয়েকজন ইরানি নেতার মৃত্যুর পর লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই ঘটনার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) এক শোকবার্তায় গোষ্ঠীটি এই হামলাকে ‘চরম অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

হিজবুল্লাহ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর এই আক্রমণ হিজবুল্লাহর জন্য একটি বড় আঘাত। তবে তারা কোনো অবস্থাতেই ‘প্রতিরোধের ময়দান’ ত্যাগ করবে না। গোষ্ঠীটি স্পষ্ট করে বলেছে, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা, মর্যাদা এবং স্বাধীন সিদ্ধান্তের প্রশ্নে তারা আমেরিকান ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। যদিও শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনার পর এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, লেবানন সরকার এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক জরুরি বৈঠকে জানিয়েছেন, দেশের শান্তি ও যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার লেবানন রাষ্ট্রের। কোনো গোষ্ঠী বা শক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে দেশ কোনো সংঘাতে জড়াবে না। প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামও দেশের নিরাপত্তা ও ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, লেবাননের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো হঠকারী পদক্ষেপে তিনি সমর্থন দেবেন না।

বর্তমানে লেবানন তার অভ্যন্তরীণ সংকট ও গত বছরের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনো কাগজে-কলমে বিদ্যমান থাকলেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা কমেনি। হিজবুল্লাহর অভিযোগ, ইসরায়েল নিয়মিতভাবে লেবাননের আকাশসীমা ও ভূখণ্ডে তাদের সামরিক তৎপরতা চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করছে। খামেনির এই হত্যাকাণ্ড সেই ভঙ্গুর স্থিতিশীলতাকে এখন পুরোপুরি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর এই প্রতিশোধের ঘোষণা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে পুরো অঞ্চলটি একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর আহ্বান জানাচ্ছে। লেবাননের সাধারণ মানুষ এবং সরকার এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত