শেফ থেকে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৪১ এএম

শৈশব থেকেই রান্নার প্রতি আগ্রহ ছিল। তার মায়ের রান্নার হাতও অসাধারণ। মা যখন রান্না করতেন তার পাশে ঘুরঘুর করতেন। পড়াশুনার পাশাপাশি নানা ধরনের রান্না নিয়েও এক্সপেরিমেন্ট করতেন। আস্তে আস্তে রান্নায় হাত পাকালেন। বিভিন্ন পত্রিকায় রেসিপি দেওয়া শুরু করলেন, টিভিতে রান্নার অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন।  রান্নার ওপরে দেশ-বিদেশের অনেকগুলো কোর্স করলেন। আস্তে আস্তে শেফ হিসেবে পরিচিতি পেলেন। এরপর লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চললেন। শৈশবেই শখ ছিল নিজের একটা রেস্টুরেন্ট খুলবেন। সেই শখ পূরণ করলেন আহারে বাহারে রেস্টুরেন্ট দিয়ে। এই গল্পটা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী তাসনীয়া রহমান সৃষ্টি’র।

তাসনীয়া রহমান সৃষ্টি পড়াশুনা করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনিং-এ। কিন্তু পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন রান্নাবান্না। শেফ হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। এর পাশাপাশি গত বছরের শেষ দিকে অক্টোবর সেপ্টেম্বর মাসে বনানীতে আহারে বাহারের রেস্টুরেন্ট নিয়ে অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। রেস্টুরেন্টটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এ বছরের জানুয়ারিতে। এর আগে অনেকদিন ধরেই ধানম-িতে ক্লাউড কিচেন ছিল তার। করোনা সময়ে ক্লাউড কিচেনটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকেই জায়গা খুঁজছেন কোথায় একটা রেস্টুরেন্ট দিতে পারেন মনমতো। পেয়ে গেলেন বনানীতে। শুরু করলেন আহারে বাহারে। আহারে বাহারেতে নান্দনিক সাজসজ্জা দেখেই আপনি মুগ্ধ হবেন।  সবধরনের খাবারই পাবেন এখানে। বিশেষ করে ৯০ দশকে যে খাবারগুলো শহরের মানুষের কাছে পরিচিত ছিল সেই খাবারগুলোই পাওয়া যাবে এখানে। আহারে বাহারের বাংলাদেশি চাইনিজ খুব জনপ্রিয়। এর পাশাপাশি আছে মাছ ভাত, ভর্তা, বিরিয়ানি, নানা ধরনের প্লাটার।

রমজানের শুরুর দিন থেকেই এখানে পাওয়া যাচ্ছে পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার নানা ধরনের ইফতার। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মেয়েদের রেস্টুরেন্ট বিজনেস করা একটু কঠিনই। এমন প্রেক্ষাপটে একজন তরুণ হিসেবে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন এমনটা জানতে চাইলে তাসনীয়া রহমান সৃষ্টি জানান, ব্যবসা শুরু করতে অনেক কাগজপত্রের দরকার হয়, কর্মী, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, প্রচারণা, কেনাকাটা এসব কিছু করতে গিয়ে আমার পরিবার এবং আমার হাসব্যান্ডকে পাশে পেয়েছি। পরিবারের সবাইই শুরু থেকে সহযোগিতা করছেন।

 কেন সবাই আহারে বাহারে রেস্টুরেন্টে খেতে আসবে মানুষ  এর বিশেষত্ব কী এ প্রসঙ্গে সৃষ্টি জানান, প্রথম কথা আমার রেস্টুরেন্টের বিশেষত্ব হলো ফ্রেশ খাবার। আউটডোর ইনডোর দুই জায়গায় বসেই খেতে পারবেন। রেস্টুরেন্টে টবে লাগানো ফ্রেশ লিফ পেঁয়াজ পাতা, লেবু পাতা, ধনে পাতা এসব দিয়েই খাবার প্রস্তুত করা হয়। এখানকার খাবারের দাম বাজেটের মধ্যে।

আহারে বাহারে’র বিশেষত্ব হলো রেস্টুরেন্ট লাগায়ো টং দোকান। যেখানে থেকে আপনি নানা ধরনের চা খেতে পারবেন। চাইলে টং দোকানের সামনে যেমন বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে চা খেতে পারবেন তেমনি ভেতরে বসে আয়েশ করেও চা খাওয়া যাবে। দুই ব্যবস্থাই আছে। বানানীর মতো একটা জায়গায় বসে ৩০ টাকায় যেমন আপনি এক কাপ চা খেতে পারবেন। তেমনি ৪ জনের প্লাটার পাবেন মাত্র ১৮০০ টাকায়। রমজানের দিনগুলোতে আহারে বাহারে খোলা থাকছে বিকাল ৪টা থেকে ভোর ৪.৩০ পর্যন্ত। আর অন্য সময় খোলা থাকবে ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত।

ঠিকানা : বাড়ি ১৩, রোড : ৫, ব্লক : এফ, বনানী, ঢাকা। ফোন : ০১৭৭৫১৫৬৫৭২।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত