বর্তমান সময়ে অনেকেই ভার্চুয়াল ইন্টারভিউয়ের সঙ্গে মোটামুটি পরিচিত। সরাসরি ইন্টারভিউ থেকে খানিকটা ভিন্নতা থাকলেও দুটোতেই প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে প্রেজেন্ট করার দূরদর্শিতা। যেহেতু একটি স্কিনের সামনে বসে ইন্টারভিউ দিতে হয় তাই কিছু বিষয়ের দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ। ভার্চুয়াল ইন্টারভিউ আকর্ষণীয় ও সফল করে তুলতে পারলেই চাকরি পাওয়ার অধিক সম্ভাবনা থাকে।
নিজেকে প্রস্তুতকরণ : জুম, গুগল মিট, স্কাইপসহ অন্যান্য ভিডিও প্ল্যাটফরমে ইন্টারভিউ হবে বলে হেঁয়ালিপনার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটিও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুখোমুখি ইন্টারভিউ-ই। সে জন্য সরাসরি ইন্টারভিউ দিতে যেভাবে প্রস্তুতি নিতেন, সেভাবেই প্রস্তুতি নিন।
পোশাকে ইমপ্রেস : বাসায় বসে ইন্টারভিউ দিচ্ছেন, এমন ভাবনা ঝেরে ফেলুন। পোশাক, আনুষ্ঠানিকতায় বুঝাতে সক্ষম হন যে, আপনি প্রস্তুত ও সরাসরি ইন্টরভিউয়ে বসেছেন। যদি বাড়িতেই বলে কোনো রকম পোশাকে ইন্টারভিউ শেষ করতে চান তবে অবশ্যই ভুলের স্বর্গে বাস করছেন।
যন্ত্রপাতি পরীক্ষাকরণ : প্ল্যাটফরম, ইন্টারনেট সংযোগ, ডিভাইস, ট্রাইপড, মাইক্রোফোন ব্যবহারের আগেই সেটআপ করে পরীক্ষা করে নিন। প্রযুক্তিগত জটিলতা থাকলে মীমাংসা করুন। যেন নিশ্চিত হওয়া যায় ভিডিও ফ্রেম, সাউন্ট, ডিভাইস সবকিছু ঠিকঠাক। পাশাপাশি ইন্টারভিউ শুরুর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আনমিউট, ভলিউম বাড়ানো-কমানো, ফ্রেমে নিজেকে রাখাসহ মৌলিক বিষয়গুলো জানেন। উপযুক্ত আলোর দিকেও খেয়াল রাখুন।
দূরে বা কাছাকাছি বসা নয় : ডিভাইস থেকে খুব দূরে বা খুব কাছাকাছি বসা থেকে বিরত থাকুন। মোটামুটি কিছুটা দূরত্বে বসুন, যেভাবে আপনার কোমর থেকে মাথা অব্দি স্পষ্ট দেখা যায়। সে জন্য চেয়ার সেটআপের সময় দেখে নিন, স্ক্রিনে যেন আপনাকে খুব ছোট বা বড় না দেখায়। ভিডিও ফ্রেমে মাথার ওপরে খানিক খালি জায়গা রাখুন এবং কাঁধ ও বুক স্পষ্ট দেখা যায় তা নিশ্চিত হয়ে নিন।
চোখে চোখ রেখে যুক্ত থাকুন : ভিডিও সাক্ষাৎকারদাতার চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। যদি তা একেবারেই সম্ভব না হয়, তাহলে যতটা সম্ভব কাছাকাছি থাকুন। অন্ততপক্ষে তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন, শুনছেন এবং যুক্ত আছেন এমনটা যেন বুঝে।
কথা বলায় মনোযোগী হন : সাধারণত আমরা ভিডিওর ক্ষেত্রে চেহারা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকি। কিন্তু কী উত্তর দিচ্ছি বা শোনাচ্ছি তা নিয়ে ভাবতে ভুলে যাই। ইন্টারভিউয়ে লক্ষ রাখুন কত দ্রুত কথা বলছেন, কীভাবে থামছেন, কণ্ঠস্বর ওঠানামা করছে ইত্যাদির দিকে। এসবে ঘাটতি
থাকলে বুঝতে বা শুনতে বিরক্ত লাগবে। তাই স্বাভাবিক গতিতে কথা বলার দিকে মনোযোগী হন।
ছোট আকারে নোট লিখুন : ইন্টারভিউ যেহেতু স্ক্রিনে সেহেতু ছোট আকারে নোট লিখে নিতে পারেন। কারণ ইন্টারভিউয়ে প্রচুর তথ্য থাকা জরুরি, তবে সাবধানে থাকাই শ্রেয়। সামান্য কয়েকটি ছোট ছোট নোট রাখতে পারেন, যা অল্পতে দেখে নিতে পারেন। সেজন্য পয়েন্ট আকারে নোট করুন। অবশ্যই খেয়াল রাখুন, যা বলছেন তা যেন রিডিং পড়ার মতো মনে না হয়।
পাশে কেউ নয় :এমন একটি রুম বেছে নিন যেখানে দরজা-জানালা বন্ধ করা যায়। বাসার সবাইকে বলুন, সাক্ষাৎকারের সময় যেন বিরক্ত না করে।
রোবট নন তা বুঝান: ভার্চুয়াল হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে ইন্টারভিউ শুরুর চেষ্টা করুন। হ্যালো বলার পর হালকা মাথা নেড়ে উপস্থিতি ও সক্রিয়তা বুঝান। সঙ্গে মৃদু (মুচকি) হাসুন, যার মাধ্যমে উষ্ণতা এবং উন্মুক্ততা প্রকাশ পাবে।
জানাতে ভুলবেন না : যদি কোনো কিছু (মাইক্রোফোন, ডিভাইস, লাইট ইত্যাদি) বন্ধ হয়ে যায় বা ত্রুটি দেখা দেয় তাহলে ভয় না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে জানান। যদি সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীকে ভালোভাবে শুনতে বা দেখতে না পান তা-ও জানান। এতে প্রমাণিত হবে যে, আপনি কথা বলতে ইচ্ছুক এবং ইন্টারভিউয়ে সক্রিয় আছেন।
আচরণ বজায় রাখুন : ইন্টারভিউয়ের টেবিলে বসে কখনো চেয়ার টানবেন না, দাঁড়াবেন না, ডিভাইসের কিনারায় যাবেন না, বিছানায় বসবেন না এমনকি টেবিলের ওপর হাতে ভর দিয়ে রাখবেন না। এমনটা হলে ক্যামেরায় আপনাকে বারবার নড়াচড়া, কাঁপাকাঁপি বুঝাবে। যা বিরক্তির জন্ম দিতে পারে।
কথা বলা শেষ করতে দিন : ভার্চুয়াল মাধ্যমে খুব শিগগিরই প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত নয়। তাতে অন্যজনের কথা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি অভদ্র মনে হতে পারে। এজন্য অন্য ব্যক্তির কথা বলার সময় নিজেকে মিউট রাখার অভ্যাস করুন। এতে কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নিতে অতিরিক্ত সময় পাবেন।
উত্তর শেষে সংকেত : আপনার উত্তর শেষ হলে ইঙ্গিত দিতে পারেন। ইন্টারভিউয়ারেরও প্রশ্ন করতে সহজ হবে। উত্তর শেষে যদি চুপ করে দীর্ঘ সময় নীরব থাকেন তাহলে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী অস্বস্তিতে পড়বেন। এমনকি উত্তর শেষ হয়েছে কিনা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে। সাক্ষাৎকারটি শুধু প্রশ্ন-উত্তর এর মতো যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী আপনার উত্তরে যদি সাড়া দেন, তখন যদি আরও কিছু বলার থাকে তা বলতে ভুলবেন না। নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করুন যেন ইন্টারভিউয়ার আপনার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারেন।
লেখক : ফিচার রাইটার