২০৩৬ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি চায় ডিএমটিসিএল

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

মেট্রোরেল যাত্রীসেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) অব্যাহতি আরও ১০ বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি করা হয়েছে।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের মাধ্যমে এনবিআরকে এ কথা জানান ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ। এনবিআরে পাঠানো চিঠির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে ডিএমটিসিএল বলছে, মেট্রোরেলে কোনো শ্রেণিভিত্তিক সেবা নেই এবং এটি সবার জন্য সমান ভাড়ার গণপরিবহন। এ কারণে সেবাটির ওপর ভ্যাট আরোপ যৌক্তিক নয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, শুধু ভাড়ার আয়ে মেট্রোরেল পরিচালনা লাভজনক হয় না বা পরিচালনা করা যায় না। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো ভাড়া থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ আয় হয়ে থাকে। অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ আয় সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিয়ে থাকে।

চিঠিতে দাবি করা হয়, মেট্রোরেল আইন ২০১৫ অনুযায়ী সরকার মেট্রোরেলের ভাড়া জনসাধারণের সাধ্যের মধ্যে রেখেছে। মেট্রোরেল সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত বিধায় কোনো ধরনের জীবাশ্ম ও তরল জ¦ালানি ব্যবহৃত হচ্ছে না। এমআরটি লাইন-৬ পরিপূর্ণভাবে চালু হলে এই রুটে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বছরে ২ লাখ ২ হাজার ৭৬২ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, এমআরটি লাইন-৬-এর সম্পূর্ণ অংশ পরিপূর্ণভাবে চালু হওয়ার পর মেট্রোরেল পরিচালনাকালে দৈনিক ট্রাফেল টাইম কস্ট বাবদ প্রায় ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং ভেহিক্যাল অপারেশন কস্ট বাবদ প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।

সূত্র আরও বলছে, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) একটি চলমান জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮ তারিখে উত্তীর্ণ হবে অর্থাৎ প্রকল্পটি এখনো শেষ হয়নি। প্রকল্পটি চলমান থাকায় প্রকল্পের দায় এবং সম্পদ এখনো ডিএমটিসিএলের কাছে হস্তান্তর হয়নি। ডিএমটিসিএলের নিরীক্ষিত অডিট রিপোর্টেও এর প্রতিফলন রয়েছে। ডিএমটিসিএল একটি কোম্পানি বিধায় মেট্রোরেল বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে গৃহীত বিপুল অঙ্কের ঋণের কিস্তি অর্থ বিভাগের মাধ্যমে নিয়মিত পরিশোধ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই কিস্তির ১০৬ কোটি ৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৬ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত