প্রবল প্রতিপক্ষ চীনকে গোল উৎসব করতে দেয়নি বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে সাহসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমারা। অবাক হয়েছেন আজকের ম্যাচের প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সং হো। বাংলাদেশের মতো পিছিয়ে থাকা দেশের ফুটবলাররা এতটা ভয়ডরহীন ফুটবল খেলবে কল্পনায় ছিল না তার। বাংলাদেশের আক্রমণভাগের প্রশংসাও করেছেন এই কোচ। আজ তাই নিজেরা সতর্ক থেকে শতভাগ জয়ের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণের পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ১০ বছর পর এশিয়ান কাপে প্রত্যাবর্তন ঘটে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে নবম এবং এশিয়ার র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটি এবারের শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে তাদের কোচ পা মাটিতে রাখার পক্ষে। বাংলাদেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি চীন ও বাংলাদেশ ম্যাচটি দেখেছি এবং মনে হয়েছে বাংলাদেশকে আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। উদাহরণ স্বরূপ, তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুতগতির এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার গতি ও দক্ষতা বেশ তীক্ষè। তারা বেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে, যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়।’
প্রতিপক্ষ দুর্বল বাংলাদেশ বলেই ভিনদেশি এক সাংবাদিক কোচকে প্রশ্ন করেছিলেন বেশি গোল দিয়ে পরের হিসেবটা সহজ করার চেষ্টা থাকবে কি না। এর জবাবে রি সং হো বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে দুটি ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচটি যদি ড্র হয়, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল সুবিধা পাবে। তবে এটি আমাদের প্রধান কৌশল নয়। আমরা গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই জিততে চাই। তাই গোল ব্যবধান বাড়িয়ে সুবিধা পাওয়ার চেয়ে প্রতিটি ম্যাচ জেতার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।’
বাংলাদেশের নাম যখন প্রতিপক্ষ হিসেবে জানতে পারেন, তখন ভাবনায় কী এসেছিল উত্তর কোরিয়ার কোচের, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে কোচ থাকলেন সাবধানী, ‘কয়েক বছর আগেও পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান বেশ নিচে ছিল। তবে বর্তমানে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে। চীনের বিপক্ষে ম্যাচ যা বুঝেছি, বাংলাদেশ দল দ্রুত উন্নতি করেছে। এখন তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।’
উত্তর কোরিয়ার কোচ ঋতুপর্ণা চাকমাসহ আক্রমণভাগের তিনজনের কথা বিশেষভাবে বলেছেন, যাদের নিয়ে নিশ্চিত আলাদা পরিকল্পনা থাকবে তার। তাই অসম লড়াইয়ে আরেকবার সাহসী হিসেবে প্রমাণ দিতে বাংলাদেশকেও হতে হবে চতুর।