নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এমপি বলেছেন, রাজনীতিতে শিষ্টাচার থাকা জরুরি। মিথ্যা বলা এবং অন্যের নামে অপবাদ দেওয়া বড় ধরনের পাপ। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সৎ পথে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মুরুব্বিরা শিক্ষা দেন মিথ্যা বলা মহাপাপ। সুতরাং মিথ্যা বলবেন না। একজন মানুষের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে বদনাম করা আরও বড় পাপ। এই পাপ থেকে নিজেরা দূরে থাকুন এবং আমাদেরও দূরে রাখুন।’
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল মাঠে রমনা থানা বিএনপি আয়োজিত এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী ফলাফল ও ভোট প্রাপ্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি দাবি করেন, এই আসনে নির্বাচনের নামে বড় ধরনের প্রহসন হয়েছে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনারা কসম খেয়ে বলেন, এতগুলো ভোট কি সিল মেরে নিয়েছেন নাকি আকাশ থেকে এসেছে? এই আসনের একটি ওয়ার্ডেও কি আপনার এমন কোনো আত্মীয় আছে যে আপনাকে ভোট দিয়েছে? কিন্তু আমি নাম ধরে বলে দিতে পারব কারা আমাকে ভোট দিয়েছে।
বক্তব্যে মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের দিন এবং আগের রাতে নজিরবিহীন ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাতের বেলায় কয়েকটি স্কুলে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে কিছু ভোট রক্ষা করতে পেরেছি। না হলে আপনারা সব কেন্দ্রেই সিল মেরে নিয়ে যেতেন। আপনারা অদ্ভুত কায়দায় ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন এবং এখন তার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন।
নিজের এলাকায় রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই এলাকায় আমার হারার কোনো ইতিহাস নেই। আওয়ামী লীগের আমলে যে নির্বাচন হয়নি, সেটি দেশের সবাই জানে। এই এলাকায় আমার অগুনতি বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন আছে। সুতরাং আমার ভোটের কোনো অভাব নেই। আমি প্রমাণ করতে পারব যে আপনারা কারচুপি করেছেন।
রমনা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামীম হোসেনের পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। ইফতারের আগে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা এবং দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
টাকা নাই ঢাকা উত্তর সিটির ফান্ডে!