গাজীপুরে গাঁজা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় মাদ্রাসা ছাত্র মাহাবুব ইসলাম রনিকে (১৩) শ^াসরোধ করে হত্যার পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এক যুবক। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় জয়দেবপুরের ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসায় ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। পরে গাজীপুর জেলার পিবিআইর তদন্তে রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকা-ে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই বিশ^জিৎ বিশ^াস এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতের নাম ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)। সে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর ফকিরা গার্মেন্টসের সামনে হাজি ইকবাল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার পিতার নাম মো. আব্দুল বারেক। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জ থানার নিজতুলন্দর দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকা থেকে ছাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, মৃত মাহাবুব ইসলাম রনি ভবানীপুরর পূর্বপাড়া এলাকায় খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে জয়দেবপুর ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরে রনি বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। পরদিন বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পায় যে ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় ১৩/১৪ বছর বয়সের এক কিশোরের মৃতদেহ পড়ে আছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত আগুনে পোড়া অবস্থায় মৃতদেহটি দেখে মাহাবুব ইসলাম রনিকে শনাক্ত করেন। পরে এই ঘটনায় মৃতের দাদা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
পিবিআই মামলাটির তদন্ত করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি ঘটনার সঙ্গে নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, নিরপরাধ একটি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন রাত অনুমান ৯টার ছাব্বির আহম্মেদ গাঁজা সেবনের জন্য জঙ্গলের ভেতরে যায়। সে আগেও মাঝে মাঝে ঐ জঙ্গলে গিয়ে গাঁজা সেবন করত। এ সময় মাহাবুব ইসলাম রনি সেখানে ছাব্বিরকে গাঁজা সেবন করতে দেখে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এতে ছাব্বির তাকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য বারবার অনুরোধ করে। কিন্তু রনি পুনরায় লোকজনকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ছাব্বির আহম্মেদ ক্ষিপ্ত হয়ে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পেছন দিক থেকে রনির গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরে। এক পর্যায়ে ছাব্বির শিশু রনির ঘাড় মোচড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মৃতদেহে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে পালিয়ে যায়।