দাম বেশি বাজেট ‘ফেইল’

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৪ এএম

মাসের শুরুতেই বেতন ও সাপ্তাহিক ছুটি দুই পাওয়া গেছে। ঈদের কেনাকাটা সেরে নিতে শপিং মলগুলোয় ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। পছন্দের পোশাক পাওয়া গেলেও বাজেটের মধ্যে মিলছে না ঈদ পোশাক। কেনাকেটা সীমিত করেই ফিরছেন অনেকেই। বোনাস পাওয়ার ফের শপিং আসবেন বলে জানিয়েছেন তারা।  

রাজধানীর গাউছুল আজমের মৌ ফ্যাশনে কেনাকাটা করতে আসা রাশিকা জান্নাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের জন্য জর্জেট কাপড়ের থ্রি-পিস কিনেছি। কিন্তু দাম একটু বেশি। আড়াই হাজার টাকা দামের থ্রি-পিস দামাদামি করে ৩ হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হয়েছে।

খাদিজা কালেকশনে স্ত্রীর জন্য থ্রি পিস কিনতে এসে দাম শুনে ফিরে গেছেন আব্দুর রহমান। দোকানে এসে দাম জানতে চাইলে বিক্রেতা রকিব মিয়া বলেন, সব তিনের (তিন হাজার) ওপরে। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে অন্য দোকানের দিকে চলে যান নিলয়।

বেসরকারি এ চাকরিজীবী সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর তো রেসপনসিবিলিটি বাড়ে, পোশাকের দামও বাড়ছে মনে হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাজেটে হচ্ছে না। দুই হাজারের মধ্যে কাপড় খুঁজছিলাম, পাচ্ছি না।’

গতকাল শুক্রবার এই এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কর্মদিবসগুলোর তুলনায় ভিড় কিছুটা বেশি। বিপণি বিতানগুলোতে ক্রেতা টানতে মাইকে চটকদার প্রচারও চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন দোকানে পোশাক নিয়ে দরকষাকষি করতে দেখা গেল ক্রেতাদের। তবে বিক্রেতারা বললেন, যে পরিমাণে ক্রেতা সমাগম হয়েছে; ওই পরিমাণের বিক্রি নেই। দরকষাকষিতে পেরে না উঠে মার্কেটে আসা অনেকেই সীমিত কেনাকাটা করে ঘরে ফিরেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। নতুন ডিজাইনের পাকিস্তানি থ্রি-পিস, শাড়ি, ছেলেদের পাঞ্জাবি আর শিশুদের বাহারি পোশাক কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নারীদের জামদানি শাড়ি পাঁচ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা, টাঙ্গাইল ছয়শ থেকে ২ হাজার টাকা, কাতান শাড়ি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা, সিল্ক ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, শিফন শাড়ি দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, সালোয়ার-কামিজ বা থ্রি-পিস ১৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, কুর্তি বা টপস আটশ থেকে ২ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আধুনিক ফ্যাশনের মধ্যে গাউন, টপস ও জিন্স প্যান্টও এবার জনপ্রিয়। এগুলোর দাম প্রায় পাঁচশ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। চাহিদা রয়েছে মেয়েদের পাকিস্তানি ফার্সি, যা পাওয়া যাচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাপড়ের মান, নকশা, ব্র্যান্ড ও হাতের কাজের ওপর নির্ভর করে এসব পোশাকের দাম নির্ধারিত হয়।

তবে শপিং মল-মার্কেটে দাম নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ ঘিরে বাড়তি দাম রাখার। বিক্রেতারা জানান, আমদানি কারণে কিছুটা দাম বাড়লেও গত বছরের চেয়ে অনেক কম।

নিউ মার্কেটে প্রবেশ দ্বারে মিলন রহমান নামের ক্রেতা বলেন, ‘মাসের বেতন পেয়েছি।  পছন্দের পোশাক পাওয়া গেলেও দাম একটু চড়া। ঈদ বলেই বেশি দাম দিয়েই দুটি শার্ট কিনেছি। পরিবারে আরও দুজনের পোশাক কেনা হয়নি। বোনাস পেলেই কিনব।’

রিদি ফ্যাশনে মেয়ের জন্য ওয়ান পিস কিনতে দরদাম করছিলেন রিশতা রাহী। কাপড়ের দাম ৮০০ টাকা শুনে পোশাক না কিনেই তিনি ফিরে যান। রিশতা বলেন, ‘সব জিনিসের দাম বেশি, এ কারণে আয়ে আর কুলাতে পারি না।’

নিউ মার্কেটের গ্লোব সুপার মার্কেটের জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমদানি জটিলতায় কিছুটা বেশি দাম রয়েছে। তবে গত বছরের মতোই আছে। ভালো কাপড় চাইলে তো দাম একটু বেশি হবেই।’

রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থিতিশীল থাকায় গত দুই ঈদে ব্যবসা ছিল মন্দা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবেশ ভালো থাকায় আশানুরূপ বিক্রির আশা করছেন তারা।

নিউ মার্কেটে তীব্র জানজট

ঈদ কেনাকাটায় সব শ্রেণির ক্রেতাদের পছন্দ নিউ মার্কেট। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই নিউ মার্কেট, গাউছিয়া ও আশপাশের মার্কেটগুলোতে ক্রেতার চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। এই পথ পাড়ি দিতে অনেক ক্ষেত্রে ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। বিকেলের দিকে যানজট আরও বেড়ে যায়। সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত ও ধানম-ি এলাকার বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। গন্তব্যে পৌঁছতে অনেকেই যানজট এড়িয়ে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার পথ খুঁজে নেন।

বাস থেকে নেমে গিয়ে হেঁটেই আজিমপুর যাচ্ছিলেন শাহ আলী আহমদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদ বাজার শুরু হলেই এই পথে চলা যায় না। ৫ মিনিটের পথ  যেতে বাসে সময় লাগে ১ ঘণ্টা। গাড়ি আর মানুষের চাপে চলাচল করা যায় না।’

তার পাশেই  হাঁটছিলেন মাঝবয়সী মো. হায়দার। তিনি বলেন, রোজা যত বাড়বে ভিড় ও যানজট আরও বাড়তে পারে। ঈদ পর্যন্ত এই পথে এভাবেই চলতে হবে।

এদিকে, নিউ মার্কেটের গাউছিয়া মার্কেটের সামনে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের সহায়তাসহ মার্কেট এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত