ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে রাশিয়া। গোয়েন্দা কার্যক্রমে জড়িত তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এ দাবি করেছে। এটি সত্যি হলে এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত বিস্তার লাভ করা এ সংঘাতের সঙ্গে এখন আমেরিকার অন্যতম প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর ও উন্নত গোয়েন্দা সক্ষমতাসম্পন্ন এক প্রতিদ্বন্দ্বী জড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই তিন কর্মকর্তা জানান, গত শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার অবস্থান ইরানকে জানিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, এটি বেশ বড় আকারের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে অনুরোধ করা হলেও ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাস কোনো সাড়া দেয়নি।

ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে রাশিয়ার সহায়তার ব্যাপ্তি ঠিক কতটা, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি অবস্থান শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ইরানি সামরিক বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ইরান আগাম সতর্কবার্তা প্রদানকারী রাডার বা ‘ওভার-দ্য-হরাইজন’ রাডারগুলোতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানছে। খুবই সুনির্দিষ্টভাবে তারা এ কাজটি করছে। তারা পরিকল্পিতভাবে কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে নিশানা বানাচ্ছে।

গত রবিবার কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইরান এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান, দূতাবাস ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক হাজার আত্মঘাতী ড্রোন এবং কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, যুদ্ধজাহাজ এবং দেশটির নেতৃত্বসহ ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

ইরানকে রাশিয়ার সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি বলেন, ইরান সরকার পুরোপুরি বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা প্রতিদিন কমছে, নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে এবং অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা হচ্ছে। এমনকি তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোও সেভাবে লড়াই করতে পারছে না। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ওয়াশিংটন পোস্টকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, পেন্টাগনের হাতে থাকা নিখুঁত অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর (ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র) দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এ অভিযান অনুমোদনের বিষয়ে ভাবছিলেন, তখন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। তবে প্রশাসন কেইনের সেই মূল্যায়নকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইছে না।

মস্কো-তেহরান সহযোগিতা সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা ইউক্রেনীয়দের যে সহায়তা দিচ্ছি, সে সম্পর্কে রাশিয়া পুরোপুরি সচেতন। আমার মনে হয়, তারা এর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে বেশ খুশি। রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মান আমেরিকার সমপর্যায়ের না হলেও তা বিশ্বের অন্যতম সেরাদের একটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত