হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য গরু-মহিষের গাড়ি

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

কুড়িগ্রামের গ্রামবাংলায় এক সময় কৃষিকাজ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা ছিল গরু ও মহিষের গাড়ি। ধীরগতির সেই গাড়ির চাকার শব্দ যেন ছিল গ্রামীণ জীবনের এক চিরচেনা সুর। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আজ সেই ঐতিহ্যবাহী গরু ও মহিষের গাড়ি হারিয়ে যেতে বসেছে ইতিহাসের পাতা থেকে।

একসময় মাঠের ফসল ঘরে তোলা, হাট-বাজার থেকে মালামাল আনা-নেওয়া, এমনকি গ্রামাঞ্চলের বিয়ের শোভাযাত্রাও হতো গরুর গাড়িতে। গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই বাহনটি ছিল মানুষের নির্ভরতার প্রতীক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাত্র ৭ থেকে ৮টি গরু ও মহিষের গাড়ি টিকে আছে। এক সময় দুই চাকার এই গাড়িই ছিল মানুষের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু এখন ট্রাক, পাওয়ার টিলার, ভ্যান, পিকআপ ভ্যান ও ট্রাক্টরের মতো আধুনিক যানবাহনের ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে একটি গরুর গাড়ি তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। অথচ এই গাড়ি চালিয়ে আয়-রোজগার দিন দিন কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশাটি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের প্রবীণ ব্যক্তি মো. মহসিন আলী ও সাদু ব্যাপারি বলেন, আগে আমাদের নিজেদেরও গরুর গাড়ি ছিল। সেই গাড়িতে করেই আমরা কৃষিপণ্যসহ হাট-বাজারের মালামাল আনা-নেওয়া করতাম। এখন আর তেমন গরুর গাড়ি চোখে পড়ে না। কোথায় যে হারিয়ে গেলো সেই দিনগুলো!

কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার গাড়িয়াল পাড়া এলাকার মহিষের গাড়ি চালক মো. হবি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই গাড়ি চালাচ্ছি। তাই একেবারে ছেড়ে দিতে মন চায় না। কিন্তু এখন গাড়ি চালাতে প্রতিদিন খরচ পড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, অথচ আয় একেবারে কম। তাই চিন্তা ভাবনা করছি এ পেশাটি বাদ দিয়ে, অন্য কিছু করবো।

কুড়িগ্রাম সম্মেলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিক বলেন, গরুর গাড়ি এই অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিন একসময় গরুর গাড়িতে চড়ে এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন। তখনই তিনি গেয়েছিলেন তার বিখ্যাত গান-‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাকাও গাড়ি তুই চিলমারির বন্দরে।’ সেই গান আজও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই গরুর গাড়িই আজ বিলুপ্তির পথে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত