বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে ৫ ০০ দিন পূরণ করলেন তাবিথ আউয়াল। নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন জানাতে তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। সিডনির একটি পার্কে বসে দায়িত্বের ৫০০ দিনের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশের ফুটবলের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন বাফুফে সভাপতি।
বাফুফে সভাপতি হিসেবে সময়টা কেমন ছিল জানতে চাইলে তাবিথ বলেন, ‘৫০০ দিনে প্রায় ১০০০ দিনের কাজ করেছি।’ তিনি বলেন, নারী জাতীয় দল এখন এশিয়ার পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পুরুষ দল এশিয়ান কাপের মূল পর্বে উঠতে না পারলেও শেষ ম্যাচ পর্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক লড়াই করেছে, যা সমর্থকদের আবার স্টেডিয়ামমুখী করেছে। তবে তার মতে, ‘আগামী ৫০০ দিন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কাজের গতি বাড়াতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘সবকিছু নিয়ে তৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই, আরও ভালো করার সুযোগ সবসময়ই থাকে।’
স্পন্সরশিপ নিয়ে প্রশ্নে তাবিথ জানান, বর্তমান কমিটি ও ফুটবলারদের ওপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এখন অনেক ফুটবলার ব্যক্তিগতভাবে স্পন্সর পাচ্ছেন যা আগে কল্পনাও করা যেত না। ঢাকার বিলবোর্ডে এখন ফুটবল তারকাদের দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রবাসী ফুটবলারদের আগমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হামজা চৌধুরীর মতো তারকা দলে আসা বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। তাকে দেখে আরও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার জাতীয় দলে খেলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে তিনি মনে করেন, শুধু ভাগ্য নয় পরিশ্রম ও পরিকল্পনাও এই অর্জনের পেছনে কাজ করেছে। সরকারি সহায়তার প্রসঙ্গে তাবিথ বলেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজে সাবেক জাতীয় ফুটবলার হওয়ায় ফুটবলের বাস্তবতা বোঝেন। তার মতে, সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্কুল পর্যায় থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ ফুটবলের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
নারী ফুটবল নিয়ে আশাবাদী বাফুফে সভাপতি। তার মতে, জাতীয় নারী দলের গড় বয়স মাত্র ১৯ বছর। ফলে এই দল আগামী কয়েকটি এশিয়ান কাপে খেলার সামর্থ্য রাখে। তিনি জানান, নারী ফুটবলের জন্য উচ্চমানের ও ভালো পারিশ্রমিকের একটি লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। যদি ২০টি ক্লাব নিয়মিত খেলতে পারে এবং প্রতিটি দলে ৩০ জন করে খেলোয়াড় থাকে, তাহলে প্রায় ৬০০ নারী ফুটবলারের আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও টুর্নামেন্টের একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার তৈরির কথাও জানান তাবিথ। একই সঙ্গে ফিফা অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার কাজও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাবিথ জানান, তিনি রাজনীতি ও ফুটবলকে আলাদা রাখতে চেষ্টা করেন। তবে তিনি আগামী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার মতে, একজন মেয়র শহরের খেলাধুলার অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
দায়িত্বের ৫০০ দিনে সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ফিফার আর্থিক নিষেধাজ্ঞা থেকে বাফুফেকে মুক্ত করার বিষয়টি। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কিছু বড় প্রকল্প এখনো শুরু করা যায়নি। যেমন ফিফা এলিট সেন্টার ও স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের কাজ। ‘এই ব্যর্থতার দায় আমারই’ বলেন বাফুফে সভাপতি।
পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার পড়ুন দেশ রূপান্তর অনলাইনে