জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার আশ্বাস দিচ্ছে সরকার। কিন্তু বাস্তবে তেল সংগ্রহে দেশ জুড়ে মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়েও মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কারে তেল ভরতে না পেরে ফিরছেন অনেকে। চাহিদা অনুসারে তেল পাচ্ছে না যাত্রীবাহী ও পণ্যপরিবহনকারী গাড়িগুলো। মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ রাখছেন মালিকরা। সুযোগ বুঝে অনেকেই অবৈধভাবে তেল মজুদ করছে। নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার নানান পদক্ষেপ নিলেও বন্ধ হয়নি নৈরাজ্য।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সূত্রমতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দেশের অভ্যন্তরে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে প্রধান প্রধান তেল ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোয় পুলিশি টহল জোরদার এবং অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, এপ্রিলের জন্য প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির চেষ্টা চলছে। যেখান থেকে পাওয়া যাবে সেখান থেকেই কেনা হবে। দ্রুত তেল আমদানি করতে প্রয়োজনে অনুসরণ করা হবে ডিপিএম (ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড) পদ্ধতি।
ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি : ভারতের নুমালিগড় থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টন জ্বালানি আমদানির ১৫ বছরের চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। এ বছর আমদানি হয়েছে ৫ হাজার টন। ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। প্রয়োজনে প্রতি মাসে গড়ে ২০ হাজার টন জ্বালানি আমদানিরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
চলমান সংকটে এক লাখ টন ডিজেল আনার কথা ভাবছে সরকার। ইতিমধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। প্রতিবেশী দেশটি ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ টন, ২০২৫ সালে ১ লাখ ২৪ হাজার ২১৬ টন ডিজেল সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া ভারত থেকে বিভিন্ন সময় জেটফুয়েল, ফার্নেস অয়েল এমনকি অকটেনও আমদানি করে বাংলাদেশ।
পাইপলাইনের পাশাপাশি ভারত থেকে নৌপথে ৩০ হাজার টন করে চারটি কার্গো আমদানি করতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর বাইরে ব্রুনাই থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল এবং অন্যান্য দেশ থেকেও তেল আমদানির চিন্তা করছে সরকার।
নিরাপত্তা জোরদার ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা : জ্বালানি তেল নিয়ে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর জ্বালানি বিভাগকে দুটি পৃথক চিঠি দিয়েছেন।
এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ডিলাররা বাড়তি চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের ডিপোগুলোয় অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এসব স্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের ডিপোগুলো ‘কেপিআই’ বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ কারণে উল্লিখিত ডিপোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন রয়েছে বলে বিপিসি মনে করছে।
অন্য এক চিঠিতে বিপিসি জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ভোক্তার মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ডিলাররা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি কিছু ভোক্তা ফিলিং স্টেশন থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, বেশি দামে বিক্রি ও পাচার ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি পাঠিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে।
গতকাল রবিবার তেজগাঁও ও মহাখালী এলাকায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে দেখা যায়, কিছু পাম্পে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কয়েকটিতে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
অভিযানে তেজগাঁওয়ের ক্লিন ফুয়েল ফিলিং স্টেশন এবং মহাখালীর ইউরেকা ফিলিং স্টেশনে নিয়ম মেনে জ্বালানি বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে তেজগাঁওয়ের সিটি ফিলিং স্টেশন, আরএস এন্টারপ্রাইজ ও রয়েল ফিলিং স্টেশন এবং মহাখালীর তশোফা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো সাময়িকভাবে ‘ড্রাই’ অবস্থায় ছিল।
মহাখালীর সোহাগ ফিলিং স্টেশনে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন মজুদ থাকার তথ্য পাওয়া গেলে পরিমাপ শেষে পুনরায় বিক্রি চালুর অনুমতি দেওয়া হয়। তবে সেখানে বিপিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাম্পে টানানো ছিল না বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মজুদ পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সীমিত বিক্রিতে ভোগান্তি : জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পেট্রোল পাম্পে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে গতকালও। অনেক স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণে তেল নিতে হচ্ছে চালকদের। কোথাও আবার জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটছে।
শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় পাম্পগুলোতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল রবিবার তেল সরবরাহ শুরু হলেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আসলে তা ঘটেনি গতকালও পাম্পগুলো ঘিরে ছিল জ্বালানি তেলের হাহাকার। অনেক পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছিল। যেসব পাম্প খোলা ছিল সেগুলোতে অপেক্ষমাণ গাড়ির লাইন দীর্ঘ হতে হতে এক থেকে দেড় কিলোমিটার লম্বা হয়েছে।
আসাদ গেটে তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় দেশ রূপান্তরের। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। তার ভাষ্যমতে, তেলের অভাবে গত কয়েক দিন ধরে রোজগার কমে গেছে। তেল জোগাড় করতে গিয়েই দিনের তিন-চার ঘণ্টা ব্যয় হয়। তারপরও দুই লিটারের বেশি তেল পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির (একাংশের) সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সাধারণত তেলবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় পাম্পে তেল সরবরাহ করা হয় না। সেই চাপ এসে পড়েছে
রবিবারও। এ ছাড়া ডিপোগুলো থেকে তেল কম দেওয়া হচ্ছে। যেখানে দরকার চার গাড়ি, দিচ্ছে এক গাড়ি তেল। ফলে সময়ের অনেক আগেই পাম্পে তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে। এই রেশনিংয়ের ভোগান্তি পোহাচ্ছি আমরা। তেল দিতে না পারায় গ্রাহকদের সঙ্গে ঝামেলা হচ্ছে।
তেল নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও বেশ সরগরম। ফেসবুকে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন অনেক ভুক্তভোগী। তাদের একজন আহরার হোসেন লিখেছেনÑ পণ করেছিলাম অসভ্যতা করব না। গাড়িতে যতক্ষণ তেল প্রয়োজন না হবে ততক্ষণ তেল তুলব না। দেশে যথেষ্ট তেলের মজুদ আছে, সরকারের এই আশ্বাসে বিশ্বাস রেখেছি। তাই অসভ্য প্যানিক বায়ারদের সাথে তাল মিলিয়ে পেট্রোল পাম্প খালি করতে লাইন দিইনি। কিন্তু আজ সত্যি তেল প্রয়োজন ছিল। রাত বারোটা থেকে তেলের জন্য ঘুরছি। বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের গাড়ির লাইন শুরু হয়েছে মহাখালী রেল ক্রসিং থেকে। ট্রাস্ট ফিলিং অন্ধকার। তারা তেল দিচ্ছে না। কল্যাণপুর খালেক পাম্পে দেড় ঘণ্টা লাইন ঠেলে যখন ভেতরে ঢুকলাম ততক্ষণে তারাও কাউন্টারে লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। রাগত ড্রাইভাররা জটলা করছে। কর্মচারীরা পালিয়েছে।
‘কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল, গাবতলী, শ্যামলী, আসাদগেট সব পেট্রোল পাম্পের গেট বন্ধ; সামনে মাইলের পর মাইল গাড়ির সারি। কোথাও তেল দেওয়া হচ্ছে না। আমার গাড়ি গ্যারেজে ঢুকিয়ে দিয়েছি। এই সংকট না কাটা পর্যন্ত গাড়ি বের করছি না আর। আপাতত গাড়ির বিলাসিতা স্থগিত। নেমে এলাম তোমাদের সমতলে’ যোগ করেন তিনি।
প্রকৌশলী আব্দুর রহমান লিখেছেন, হুজুগের দেশে মাত্র দুই ঘণ্টা সময় লাইনে বিনিয়োগ করে ব্যক্তিগত দ্বিচক্রযানের কিঞ্চিৎ তৃষ্ণা মেটানো গেল। ফ্রিতে বুদ্ধিদান-ক্রান্তিকালীন সময়ে যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। জোড় তারিখে জোড় সংখ্যার নাম্বারের যান চলতে পারে, বিজোড় তারিখে বিজোড় সংখ্যার নাম্বারের যান চলতে পারে।
রেশনিংয়ে তেল বিক্রিতে আতঙ্ক : পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাম্প থেকে বিভিন্ন যানবাহনে তেল কেনার সীমা বেঁধে দেওয়া হয় গেল বৃহস্পতিবার। আর গতকাল ডিপো থেকে পাম্পগুলোকে তেল বরাদ্দে শুরু হয়েছে রেশনিং ব্যবস্থা। এতে আগের বছরের তুলনায় এবার ফিলিং স্টেশনগুলোকে ২৫ শতাংশ কম তেল দেওয়া হচ্ছে। এমন সিদ্ধান্তে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেশি ছড়িয়েছে।
যদিও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, কৃত্রিম সংকট এড়িয়ে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেল সরবরাহ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ এবং খাতসংশ্লিষ্টরা এ সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলেও উল্লেখ করেছেন বলে তিনি জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ রেশনিং চলবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়তে শুরু করেছে। রবিবার দুপুরে একটি তেলবাহী জাহাজ দেশে নোঙর করেছে এবং আরেকটি জাহাজ নোঙর হওয়ার কথা রয়েছে। এ দুই জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস হলে দেশের মজুদ আরও বাড়বে। তবে মজুদ বাড়লেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে না।
তিনি বলেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা কেউ জানে না। তাই মজুদ সাশ্রয় করতে সরকার রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে এবং জনগণকে তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। জ্বালানি তেল চোরাচালান বা কালোবাজারে যাতে না যায়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান মন্ত্রী।
বড় রদবদল বিপিসিতে : জ্বালানি তেল নিয়ে সৃষ্ট নৈরাজ্যের মধ্যে গতকাল বিপিসিতে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। রবিবার এ-সংক্রান্ত এক আদেশে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়াকে এলপি গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পাশাপাশি বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপকের (বণ্টন ও বিপণন) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মণিলাল দাশ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন। মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদকে অর্থ বিভাগ থেকে বদলি করা হয়েছে বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগে। বণ্টন ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন মহাব্যবস্থাপক চেয়ারম্যানের দপ্তরে সংযুক্ত হয়েছেন। উপমহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর কবির অর্থ বিভাগ মহাব্যবস্থাপকের চলতি দায়িত্ব পালন করবেন। উপমহাব্যবস্থাপক শাহরিয়ার মোহাম্মদ রাশেদ বণ্টন ও বিপণন বিভাগ থেকে সচিব দপ্তরে সংযুক্ত হয়েছেন। ব্যবস্থাপক ইসতিয়াক হোসেন হিসাব/ফান্ড হিসাব বিভাগ থেকে বণ্টন ও বিপণন বিভাগে বদলি হয়েছেন। ব্যবস্থাপক বদরুল ইসলাম ফকির বণ্টন ও বিপণন বিভাগ থেকে নিরীক্ষা বিভাগে বদলি হয়েছেন। ব্যবস্থাপক আল-আমীন নিরীক্ষা বিভাগ থেকে হিসাব/ফান্ড বিভাগে কাজ করবেন। সিনিয়র সেলস অফিসার শিশির আইচ মেঘনা পেট্রোলিয়াম থেকে বিপিসির বণ্টন ও বিপণন বিভাগে বদলি হয়েছেন। লিগ্যাল অ্যান্ড এস্টেটের আবু নোমান মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন শিবলী যমুন অয়েল থেকে বিপিসির আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কনিষ্ঠ কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী নিরীক্ষা বিভাগ থেকে সংস্থাপন শাখায় বদলি হয়েছেন। আজ সোমবার থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিপিসি।