বিশ্বের বিভিন্ন মেগাসিটিতে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও। দীর্ঘ সময় ধরে দূষণে ধুঁকতে থাকা ঢাকার বায়ুমান মাঝে কিছুটা উন্নতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আবারও অবনতির দিকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র ফুটে উঠেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭৩ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় ১৭৩ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বায়ুমানের এই গাণিতিক মানদণ্ড সাধারণ নগরবাসীর জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বাতাসের এই অবনতি ঢাকার জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।
একই সময়ে প্রকাশিত বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ৩৩২ স্কোর নিয়ে শহরটির বাতাস বর্তমানে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে রয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের দিল্লির স্কোর ২০২ এবং ১৮৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। এ ছাড়া ১৭৯ স্কোর নিয়ে ভারতের কলকাতা চতুর্থ এবং ১৭৪ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহর। এই তুলনামূলক চিত্র নির্দেশ করে যে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বর্তমানে ভয়াবহ বায়ুদূষণ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বায়ুমান সূচক বা একিউআই মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ‘ভালো’ এবং ৫১ থেকে ১০০-কে ‘মাঝারি’ ধরা হয়। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। ঢাকার বর্তমান স্কোর ১৭৩ হওয়ায় এটি সাধারণ সবার জন্যই ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ অতিক্রম করলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা বর্তমানে লাহোর অতিক্রম করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার নিঃসরণের কারণে ঢাকার বাতাসে অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই বিষাক্ত বাতাসের প্রথম শিকার হচ্ছে শিশু ও প্রবীণরা। দীর্ঘদিন এই পরিবেশে বসবাস করলে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও ফুসফুসের জটিল ব্যাধির প্রকোপ বাড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
মার্কিন অনুমোদন ছাড়া ইরানের নতুন নেতা টিকবে না