ব্যর্থতা যে সবসময় নেচিবাচক তা কিন্তু নয়। ব্যর্থতা থেকেই তো আমরা শিখি। কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে চমকে ওঠার কিছু নেই। যেহেতু সফল হতে পারেননি, তাই আক্ষেপে সময় নষ্ট না করে আগে দ্রুতগতিতে পরিস্থিতি সামাল দিন। মানসিকভাবে হকচকিয়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। বিস্তারিত ভাববার সময় পরেও পাওয়া যাবে। একটি কাজ শুরু করার আগে ৩টি ধাপে পরিকল্পনা করুন। এক. নির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়ার জন্য কাজটি ঠিক কীভাবে করা হবে, দুই. সফল হতে পরবর্তী ধাপ কী হবে, তিন. ব্যর্থ হলে পরবর্তী ধাপ কী হবে। আপনি যদি পরিকল্পনা করে কাজ করার অভ্যাস তৈরি করেন তাহলে ব্যর্থ হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আপনার জন্য জলের মতো সহজ হবে। আপনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরবর্তী সঠিক সিদ্ধান্তগুলোতেও তালগোল পাকিয়ে ফেলতে পারেন।
অনেক সময় পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্যের প্রয়োজন হয়। সহকর্মীর সাহায্য, বসের পরামর্শ, শুভাকাক্সক্ষীর উৎসাহ এই সব মিলিয়েই ধাপে ধাপে সফল হয়ে উঠি। তাই প্রয়োজনে যাতে সাহায্যের হাত পেতে আপনাকে বেগ পেতে না হয়, তাই সবার সঙ্গে সুম্পর্ক বজার রাখার চেষ্টা করুন। কে কখন কাজে লেগে যায় বলা যায় না। কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থতা কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত আমরা নানা কাজে ব্যর্থ হচ্ছি। কিন্তু আপনিও থেমে থাকবেন না। আত্মবিশ্বাস রাখুন। পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক, নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাবেন না। আত্মবিশ্বাসীরাই ব্যর্থতার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এর পেছনে একটা জাদুকরী কারণও আছে আত্মবিশ্বাসীরা শুধু নিজেরাই শক্তিশালী হয় না, আশপাশের দুর্বলচিত্তের মানুষের ভেতরেও শক্তি জোগায়। যারা ব্যর্থ হন, তারা সমালোচনার শিকার ও কটূক্তির শিকার হন। অনেকেই আক্রমণ সহ্য করতে পারেন না, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বা পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে আরও বড় ভুল করে বসেন। সুযোগসন্ধানীদের খপ্পর থেকে সাবধান। পরিস্থিতি সামলে সবার বক্তব্যের উচিত জবাব দেওয়া যাবে।
শুধু খেয়াল রাখতে হবে একই কারণে যেন বারবার ব্যর্থ না হন। একই ভুল যেন বারবার আপনার চলার পথকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর ব্যর্থতার কারণ নিয়ে বসুন। যে কারণে আপনি ব্যর্থ হতে পারেন। এক. আপনি ব্যর্থ হয়েছেন কারণ আপনার যোগ্যতার অভাব ছিল, দুই. ব্যর্থতার কারণ সহকর্মীদের অক্ষমতা, তিন. অর্থ, সময় ও নেতৃত্বে সমন্বয়ের অভাব, চার. সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশিত লক্ষ্য পরিবর্তন হয়ে যাওয়া, পাঁচ. পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে গলদ এবং ছয়. নিয়ন্ত্রণহীন বিষয় যেমন দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি। এই কারণগুলো ছাড়া একটি কাজ ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই।
প্রতিকার বা প্রতিরোধ ব্যর্থতা দূর করার একটি প্রধান করণীয়। যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের জন্য বা যে কারণে কাজটি ব্যর্থ হলো পরবর্তী সময়ে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দুর্বল জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে মেরামত করতে হবে। আমরা কাজের স্রোতে এতটাই ব্যস্ত থাকি যে এই সাধারণ ভুলটা কিন্তু মাঝে মাঝেই হয়ে যায়। সেই একই ভুল সেই একই কারণে আবারও ঘটে। কোনো কোনো ব্যর্থতা এত বড় হয়ে দাঁড়ায় যা ক্যারিয়ারের জন্যও হুমকিস্বরূপ। এসব ক্ষেত্রে একমাত্র উপায় ধীর স্থির ঠান্ডা মাথা, একাগ্রতা, পরিশ্রম, নিিদ্র পরিকল্পনা, পূর্ব প্রস্তুতি আর দলগত সাহায্য। আবার শত চেষ্টা করেও কত কাজ ব্যর্থ হয়ে যায়! কিন্তু তাতে কোনো আত্মগ্লানি থাকে না। আপনি তো সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছেন।
লেখক : প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিয়ন্ড ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি