মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যদি প্রবাসী শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, তাহলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যদি তাদের কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়, তখন রেমিট্যান্সপ্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বিএবির নেতাদের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আবদুল হাই। এ সময় বিএবির অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বিএবি জানিয়েছে, গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল মূলত পরিচিতিমূলক। এতে ব্যাংক খাতের উন্নয়ন, নীতিগত সমন্বয় এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
ব্যাংক খাতের নীতিনির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় থাকলে সঠিক নীতি গ্রহণ করা সহজ হয়। অন্যথায় নীতিনির্ধারণে সমন্বয়হীনতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তার কথাও আলোচনায় উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদ- আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে আগাম ঋণক্ষতির জন্য প্রভিশন সংরক্ষণের বিষয়টিও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে আবদুল হাই সরকার বলেন, এ-সংক্রান্ত সার্কুলার ইতিমধ্যে জারি হয়েছে এবং ২০২৮ সাল থেকে এটি কার্যকর হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে এ নীতি অনুসরণ করা হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটি কীভাবে কার্যকর করা যায়, সে বিষয়টি বিবেচনা করে কাজ করছে ব্যাংকগুলো। কারণ দেশের ব্যাংকিং অবকাঠামো ও সক্ষমতা উন্নত দেশের তুলনায় ভিন্ন।
বিএবি চেয়ারম্যান আরও জানান, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোভাব ইতিবাচক বলে তাদের কাছে মনে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।