মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের জেরে অন্তত ২০ বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এসময় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তত আরো ২০টি বসতবাড়ি। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার (১০মার্চ) সকাল সাতটার দিকে নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর আখতার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এরই জের ধরে হাসান মুন্সী পক্ষের লোকজনের বসতবাড়িতে হামলা চালায় নিহত আলমগীর পক্ষের লোকজন। ভাংচুর ও লুটপাট শেষে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লাবলু হাওলাদার, হাসান মুন্সীর ঘরসহ অন্তত ২০টি বসতবাড়ি। এসময় আরো অন্তত ২০ টি বসতবাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করে আখতার হাওলাদারের সমর্থকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিস।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ইট ও গাছ ফেলে ঘটনাস্থলে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় বেগ পোহাতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চালানো হচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, ফায়ার সার্ভিসের যৌথ অভিযান।
উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার পক্ষ ও হাসান মুন্সী পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তবে বিগত বছরগুলোতে এলাকা কিছুটা শান্ত থাকলেও গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টে সরকার পতনের পর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দুইপক্ষ। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ শ্রমিক দলের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়, ঘটে শত শত ককটেল বিস্ফোরণ। কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসান মুন্সীর ভাই সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি শাকিল মুন্সীকে। এরই জের ধরে মঙ্গলবার সকালে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারের বসতবাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সির লোকজন। এসময় আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বিচ্ছিন্ন করা হাত। ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বসতবাড়ি। এই ঘটনায় মাসুদ বেপারী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।