২০২৪ সালের জুলাই- আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ১২ পুলিশ সদস্যকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রৌনক জাহান তাকি এ আদেশ দেন। মামলার এ আবেদনটি করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেনের ছোট ভাই জালাল হোসেন। আদালতে বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনিক দেওয়ান।
মামলায় উল্লেখযোগ্য যাদের আসামি করা হয় তারা হলেন, সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, আব্দুল কাদের, আবু বাকের মজুমদার, রিফাত রশিদ, হাসিব আল ইসলাম, নুসরাত তাবাসসুম, উমামা ফাতেমা, আরিফ সোহেল প্রমুখ। জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকায় গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আন্দোলন চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় নিহত ৪৪ পুলিশ সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন আসিফ মাহমুদসহ আন্দোলনের তিন নেতা। পরে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়ক হন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপদেষ্টার পদ ত্যাগ করেন আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম।
ঢাকার আদালতে করা মামলার আবেদনের অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা যাত্রাবাড়ী থানার সামনে অন্তত ৭/৮টি গাড়ি পুড়িয়ে মালামাল লুট করে হামলা ও ভাঙচুর করে যাত্রাবাড়ি থানা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে আসিফ মাহমুদ এবং তার সহকারীদের সহযোগিতায় ওসি আবুল হোসেনসহ ১২ জনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নতুন সরকার শপথ গ্রহণের কয়েকদিন পর জুলাই আন্দোলনের সময়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে সরকারের দুজন মন্ত্রী কথা বলেন।
দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার.পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার তদন্তের বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন, সেটাই হবে এবং দ্রুত তদন্ত করা হবে। তবে গত ১ মার্চ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে গত ২৬ জানুয়ারি অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।
