অর্ধেকেরও কম দামে ঈদবাজার, ১২০০ পরিবারের মুখে হাসি

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

যশোরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সুলভ মূল্যের ঈদ বাজার বসিয়ে অর্ধেকেরও কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করেছে সামাজিক সংগঠন ‘ব্যাক বেঞ্চার’। এই বাজার থেকে চাল, আটা, সয়াবিন তেল, সেমাই, চিনি, দুধ, মুরগির মাংসসহ প্রায় সাড়ে ৮৫০ টাকার ১০টি পণ্য মাত্র ৪০০ টাকায় কিনতে পেরেছে প্রায় ১২০০ পরিবার।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কের নতুন বাজার প্রাঙ্গণে অস্থায়ীভাবে এই ঈদ বাজার বসে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সামাজিক সংগঠন ‘ব্যাক বেঞ্চার’ এ আয়োজন করে।

আয়োজকরা জানান, সংগঠনটির সদস্যদের কেউ চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী। তাদের নিজস্ব চাঁদার অর্থ দিয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংগঠনটি প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। করোনাকালেও তারা অক্সিজেন সেবা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবারও আয়োজন করা হয় সুলভ ঈদ বাজারের। যশোর শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় জরিপ চালিয়ে প্রায় ১২০০ নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের জন্য প্রায় ৮৫০ টাকার ১০টি পণ্য ভর্তুকি দিয়ে মাত্র ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। টানা তৃতীয় বছরের মতো এই সুলভ ঈদ বাজার আয়োজন করছে সংগঠনটি।

শুক্রবার দুপুরে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নতুন বাজার প্রাঙ্গণে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। বিভিন্ন পণ্যের স্টল সাজানো হয়েছে। ক্রেতারা প্রথমে ক্যাশ কাউন্টারে টাকা দিয়ে একটি স্লিপ সংগ্রহ করছেন। এরপর সেই স্লিপ দেখিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে স্টল থেকে পছন্দের পণ্য ব্যাগে ভরে নিচ্ছেন।

সিটি কলেজপাড়া এলাকা থেকে আসা বৃদ্ধ রাজমিস্ত্রি সিদ্দিক হোসেন বলেন, বয়সের কারণে এখন নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। ছোট ছেলের আয়ে কোনোভাবে সংসার চলে। বাজারে জিনিসপত্রের দাম এত বেশি যে ঈদের বাজার করা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। এখানে অর্ধেক দামে পণ্য কিনতে পেরে ঈদের আগেই আনন্দ পেয়েছেন।

শহরের একটি বাসাবাড়িতে কাজ করা আসমা খাতুন বলেন, বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়ছে। কম দামে পণ্য পেয়ে আমাদের মতো গরিব মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। এমন আরও সংগঠন হলে গরিব ও মধ্যবিত্তদের অনেক উপকার হতো।

প্যারালাইজড শামীম হোসেন বলেন, এই ১০টি পণ্যের বাজারদর ৮০০ টাকার বেশি। কিন্তু আমি কিনেছি মাত্র ৪০০ টাকায়। পোলাও চাল, তেল, মুরগিসহ প্রয়োজনীয় জিনিস আছে। এমন উদ্যোগের জন্য এই সংগঠনকে দোয়া ছাড়া কিছু দেওয়ার নেই।

সংগঠনটির সভাপতি জাকিউল ইসলাম পিংকু বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। তারা অনেক সময় কারও কাছে হাতও পাততে পারে না। তাদের কথা চিন্তা করেই এই ঈদ বাজারের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে তারা পরিবারের সঙ্গে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারে।

সংগঠনটির উপদেষ্টা শাহনেওয়াজ আনোয়ার লেনিন বলেন, দরিদ্র, নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ অনেক সময় ঈদের বাজার করতে পারে না। তাই তাদের জন্য পোলাও চাল, মুরগির মাংসসহ প্রয়োজনীয় ১০টি পণ্য অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। টানা তিন বছর ধরে আমরা এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরও জানান, শুরুতে সংগঠনটি অসহায় মানুষের জন্য একবেলার খাবারের আয়োজন করত। পরে অনেক শুভানুধ্যায়ী ও দানশীল ব্যক্তির সহযোগিতায় কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্যাক বেঞ্চার’র এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বিশিষ্ট রাজনীতিক ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের এমন সামাজিক উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। নিজেদের সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক। পাড়া-মহল্লায় এমন সংগঠন গড়ে উঠলে সমাজে বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত