ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। গতকাল রবিবার বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ভোটের দিনক্ষণ জানিয়ে দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের অন্য দুই সদস্য ড. সুখবির সিং সান্ধু এবং ড. বিবেক জোশি। ঘোষণা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে। আসাম, কেরালা ও পুদুচেরিতে এক দফায় ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে। তামিলনাড়ুতেও এক দফায় আগামী ২৩ এপ্রিল ভোট হবে। আর ভোট গণনা শেষে আগামী ৪ মে ফল ঘোষণা করা হবে।
ভোটের দিন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোয় নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে। সবশেষ ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ভোট হয়েছিল ৮ দফায়। এই ৫ রাজ্যের ভোটারসংখ্যা ১৭ কোটি ৫০ লাখ। আসন ৮২৪টি। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি। পশ্চিমবঙ্গে এখন ভোটারসংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লাখ। পশ্চিমবঙ্গে ভোটকেন্দ্র ৮০ হাজার ৭১৯টি। প্রথম দফায় ভোট হবে ১৫২টি আসনে আর দ্বিতীয় দফায় হবে ১৪২টি আসনে। পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভোট করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। থাকবেন ১৫ লাখ ভোটকর্মী। নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ। নিয়োজিত থাকবেন ৪৯ হাজার মাইক্রো অবজারভার, ১ হাজার ৪৪৪ জন অবজারভার, ৪০ হাজার গণনাকর্মী, ২১ হাজার সেক্টর অফিসার এবং গণনার জন্য ১৫ হাজার মাইক্রো অবজারভার। এই রাজ্যের বিধানসভার ২৯৪ আসনের সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০২১ সালে। ওই নির্বাচনে বিজয়ী দল তৃণমূল পায় ২১৩ আসন। বিজেপি ৭৭ আসনে জয়ী হয়। বাম দল এবং কংগ্রেস কোনো আসনে জিততে পারেনি।
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে মমতা সরকারের পতনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিদায় নিতে হবে তৃণমূল সরকারকে। গত শনিবার বিকেলে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির মহাসমাবেশে এ কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে দলগুলোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই মোদির এই সফর। সভায় মোদি বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতি, অত্যাচারের জবাব দেবে এই বাংলার মানুষ এবারের নির্বাচনে। বিজেপির নতুন সরকার এই বাংলাকে নতুনরূপে গড়বে। মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে, পেটে ভাত জোগাবে, অন্ন-বস্ত্রের গ্যারান্টি দেবে। মোদি চ্যালেঞ্জের সুরে বলেছেন, ২০২৬-এ এখান থেকে তৃণমূলের মহা জঙ্গলরাজের বিদায় হবে। চোরের রাজত্বের অবসান হবে। মানুষ তো জানে, কে এই রাজ্যের মহা চোর। মোদি বলেন, এই মহাসমাবেশে মানুষের ঢল দেখে বুঝেছি, কী চাইছেন এই রাজ্যবাসী। চাইছে মমতার জঙ্গলরাজের অবসান। এই দুর্নীতিবাজ সরকারের সব অপরাধের তদন্ত হবে, বিচার হবে। কেউ রেহাই পাবে না; তৃণমূলের অত্যাচারীদের কোনো ক্ষমা নেই।
মোদি বলেন, এই রাজ্যের তৃণমূল সরকার চাকরি বিক্রি করেছে। এই সরকার কাটমানি না পেলে কোনো কেন্দ্রীয় প্রকল্প গ্রামে পৌঁছায় না। তাই এখান থেকে তৃণমূল বিদায় নিলে বাংলায় সুশাসন আসবে। গরিবরা পাবে পাকা বসতঘর। মোদি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অসম্মান করার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আদিবাসী এই রাষ্ট্রপতির তৃণমূলের অসম্মানের জবাব দেবে রাজ্যের আদিবাসী সমাজ এবার। নরেন্দ্র মোদি এই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি রুপির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করেন।