চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রের মেয়াদ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিটি মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। এই বক্তব্যকে আওয়ামী আমলের 'ফ্যাসিবাদকে সমর্থন' দেওয়ার নামান্তর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর লালদীঘি ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের লংমার্চ শেষে এক সমাবেশে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান চসিক মেয়রের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আগের যে সরকার, যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, এই সরকার একই রাস্তা ধরে হাঁটছে। চট্টগ্রাম তার আরেকটা বাস্তব উদাহরণ। এখানে একজন মেয়র আছেন। এখন শুনি যে উনি যত দিন ইচ্ছা তত দিন থাকবেন। এটা কি সুশাসন নাকি ফ্যাসিবাদ? আপনি আসেন, আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন। আপনি নেতৃত্ব দেন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
জামায়াত আমিরের এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাডা থেকে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। ভিডিওর শুরুতেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের লংমার্চকে ‘লং ড্রাইভ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট কায়দায় ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত করেছিল। রেজাউল করিম চৌধুরী অবৈধভাবে মেয়র হয়েছিলেন। ওই দিন জোর করে জনগণের রায় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলাম। ট্রাইব্যুনাল আমাকে মেয়র নির্বাচিত ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে আমি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা করা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এটি ঐতিহাসিক রায়। এ রায়ের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আর জামায়াতের আমিরের কথার মধ্যে দিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, তিনি আওয়ামী লীগের যে পাঁচ বছর ফ্যাসিবাদী সময়, সেটিকে বৈধ বলছেন। কিন্তু রায়ে স্পষ্টভাবে বলা আছে, আওয়ামী লীগের যিনি মেয়র ছিলেন তিনি অবৈধ ও মেয়াদও অবৈধ। আর মেয়র হিসেবে আমার (শাহাদাত হোসেন) মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকবে।’
চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে পদ থেকে পদত্যাগ করবেন জানিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাব। এ নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝির কিছু নেই। এ কথা আগেও বলেছি। সবারই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার আছে। সবাই মিলে গণতান্ত্রিক নির্বাচন করতে চাই। অতীতে বিএনপির আমলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ভবিষ্যতেও হবে। এবারও রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশ্বাসযোগ্য, গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।’