জ্বালানি, রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ পৃথিবী

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০১:৪১ এএম

আধুনিক সভ্যতার প্রতিটি স্পন্দন আর গতির মূলে রয়েছে জ্বালানি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা শক্তির ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব

শক্তি বা এনার্জি ছাড়া বর্তমান বিশ্ব অচল। বর্তমান পৃথিবীতে শক্তির চাহিদা যে হারে বাড়ছে, তাতে আগামী কয়েক দশকে এটি মানবজাতির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। আধুনিক জীবনযাত্রার মান যত উন্নত হচ্ছে, আমাদের জ্বালানি ব্যবহারের মাত্রাও তত বাড়ছে। কিন্তু এই চাহিদার বিপরীতে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় আমাদের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

জ্বালানির প্রধান ধরন

পৃথিবীর বর্তমান শক্তির জোগান আসে মূলত দুই ধরনের উৎস থেকে। একটি হলো জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল এবং অন্যটি হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা রিনিউয়েবল এনার্জি। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে গত দুইশ বছর ধরে কয়লা, খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস আমাদের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে ট্রান্সপোর্টেশন বা পরিবহন খাত এবং পাওয়ার জেনারেশন বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের আধিপত্য একচেটিয়া। বিশ্বের বড় বড় তেল কোম্পানি যেমন সৌদি আরামকো কিংবা এক্সনমোবিল বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে প্রভাব বিস্তার করে, তা যেকোনো দেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে এই খনিজ সম্পদগুলো অনিশেষ নয়। মাটির নিচে জমা থাকা এই সম্পদের ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। অন্যদিকে পেট্রোলিয়াম এবং কয়লা পোড়ানোর ফলে যে কার্বন ফুটপ্রিন্ট তৈরি হচ্ছে, তা পৃথিবীকে এক ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিকল্প হিসেবে রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন সময়ের দাবি। আধুনিক সভ্যতা ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা রিনিউয়েবল এনার্জি এখন আর কোনো বিকল্প ভাবনা নয় বরং এটিই আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূর্যের আলো, বাতাসের গতিবেগ, পানির প্রবাহ কিংবা পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ এই সবকিছুই প্রকৃতির এমন এক অফুরন্ত ভাণ্ডার যা কখনো শেষ হবে না। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বকে বাধ্য করছে ক্লিন এনার্জি বা পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে ধাবিত হতে। এই রূপান্তরের মূল লক্ষ্য হলো কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পৃথিবীর উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। বর্তমান বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জয়যাত্রা কেবল পরিবেশ রক্ষার খাতিরে নয় বরং অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তার খাতিরেও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে।

সৌরশক্তির অফুরন্ত সম্ভাবনা

নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বললে প্রথমেই আসে সোলার এনার্জি বা সৌরশক্তির নাম। সূর্যের আলো থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন করার প্রযুক্তি অর্থাৎ ফটোভোলটাইক সেল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। বড় বড় সোলার পার্ক থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বাড়ির ছাদে বসানো রুফটপ সোলার প্যানেল পর্যন্ত এই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটেছে। সৌরবিদ্যুতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থা অর্থাৎ দুর্গম অঞ্চলেও যেখানে জাতীয় গ্রিড পৌঁছানো সম্ভব নয় সেখানেও সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে কনসেন্ট্রেটেড সোলার পাওয়ার প্রযুক্তির মাধ্যমে সূর্যের তাপকে কাজে লাগিয়ে বিশাল আয়তনের বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা শিল্পকারখানার চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এই খাতের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও বিনিয়োগের ফলে সোলার প্যানেলের দাম গত এক দশকে নাটকীয়ভাবে কমেছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালে চলে এসেছে।

বায়ুশক্তি

বায়ুশক্তি বা উইন্ড পাওয়ার এখন বিশ্বের অনেক দেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছে। বিশাল বিশাল উইন্ড টারবাইন বা বায়ুকলের মাধ্যমে বাতাসের গতিশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে এবং পরবর্তীতে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে বা সমুদ্রের মাঝখানে স্থাপিত অফশোর উইন্ড ফার্মগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব কারণ সেখানে বাতাসের প্রবাহ থাকে নিরবচ্ছিন্ন ও শক্তিশালী। ইউরোপের অনেক দেশ এখন তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদাই মেটাচ্ছে এই বায়ুবিদ্যুতের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি সমুদ্রের জোয়ার-ভাটাকে কাজে লাগিয়ে টাইডাল এনার্জি বা জোয়ার-ভাটা শক্তি এবং সমুদ্রের ঢেউ থেকে ওয়েভ এনার্জি উৎপাদনের গবেষণাও সফলতার মুখ দেখছে। এই উৎসগুলো পুরোপুরি প্রাকৃতিক হওয়ায় এখানে পরিবেশ দূষণের কোনো ভয় নেই এবং একবার অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেলে দীর্ঘকাল ধরে নামমাত্র খরচে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

হাইড্রো-ইলেকট্রিসিটি

জলবিদ্যুৎ বা হাইড্রো-ইলেকট্রিসিটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য উৎস। বড় বড় বাঁধ তৈরি করে পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘোরানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এটি অত্যন্ত স্থিতিশীল একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা যা গ্রিডের বেস লোড সামলাতে সক্ষম। অন্যদিকে জিওথার্মাল এনার্জি বা ভূতাপীয় শক্তি হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের প্রচণ্ড তাপকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল। আগ্নেয়গিরি প্রবণ অঞ্চল বা ভূগর্ভস্থ তপ্ত প্রস্রবণ আছে, এমন দেশগুলোতে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। এটি বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তি সরবরাহ করতে পারে, যা সৌর বা বায়ুবিদ্যুতের তুলনায় অনেক বেশি ধারাবাহিক। প্রকৃতির এই গভীরতম শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশগুলো তাদের আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে পারছে।

বায়োমাস ও সবুজ হাইড্রোজেন

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি উৎপাদনের এক চমৎকার সমন্বয় হলো বায়োমাস বা জৈব জ্বালানি।

কৃষি বর্জ্য, প্রাণীর বিষ্ঠা কিংবা পচনশীল আবর্জনা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে তা রান্নার কাজে বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বড় পরিবর্তন এনেছে। তবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এবং আশাব্যঞ্জক প্রযুক্তি হলো গ্রিন হাইড্রোজেন বা সবুজ হাইড্রোজেন। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে পানির তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে হাইড্রোজেন পাওয়া যায় তা হলো পুরোপুরি কার্বনমুক্ত। ভারী শিল্পকারখানা, দীর্ঘ পাল্লার জাহাজ কিংবা উড়োজাহাজ চালানোর জন্য যেখানে সাধারণ ব্যাটারি যথেষ্ট নয় সেখানে এই সবুজ হাইড্রোজেন বিপ্লব ঘটাতে পারে। একে বলা হচ্ছে ভবিষ্যতের জ্বালানি, যা বিশ্বকে পুরোপুরি জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

জ্বালানি সঞ্চয়

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো এর পরিবর্তনশীলতা, কারণ সূর্য সবসময় থাকে না কিংবা বাতাস সবসময় একইভাবে বয় না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এনার্জি স্টোরেজ বা জ্বালানি সঞ্চয় ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির আধুনিক সংস্করণ এবং উন্নত স্টোরেজ সিস্টেমের মাধ্যমে দিনের বেলা উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ রাতে ব্যবহারের জন্য জমিয়ে রাখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখে। এই প্রযুক্তির ফলে বিদ্যুতের অপচয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে এবং সাধারণ গ্রাহকরাও এখন পাওয়ার গ্রিডে নিজেদের উৎপাদিত বাড়তি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারছে।

জ্বালানি সংকটের কারণ ও প্রভাব

বিশ্বজুড়ে আজ যে এনার্জি ক্রাইসিস বা জ্বালানি সংকট আমরা দেখতে পাচ্ছি, তার মূলে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রথমত, গ্লোবাল পপুলেশন গ্রোথ বা জনসংখ্যা বৃদ্ধি। মানুষের সংখ্যা যত বাড়ছে, শক্তির চাহিদাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, র‌্যাপিড ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন বা দ্রুত শিল্পায়ন। বিশেষ করে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে হাজার হাজার নতুন কলকারখানা স্থাপিত হচ্ছে, যার জন্য বিশাল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন। তৃতীয়ত, আরবানাইজেশন বা নগরায়ণ। মানুষ এখন শহরমুখী হচ্ছে, যার ফলে জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের পাশাপাশি শক্তির অপচয় ও চাহিদাও বাড়ছে। অথচ আমাদের সঞ্চিত খনিজ সম্পদ সীমিত। প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার বা তেলের কূপগুলো চিরস্থায়ী নয়। এই ডিমান্ড এবং সাপ্লাই বা চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যহীনতাই সংকটকে তীব্র করে তুলছে।

জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আমাদের ইকোসিস্টেম বা বাস্তুসংস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করছে। ফসিল ফুয়েল দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আইইএ এবং ইউনাইটেড নেশনস বারবার সতর্ক করছে যে, আমরা যদি কার্বন অ্যামিশন বা কার্বন নিঃসরণ কমাতে না পারি, তবে ক্লাইমেট চেঞ্জ বা জলবায়ু পরিবর্তন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। এয়ার পলিউশন বা বায়ুদূষণ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভূরাজনীতি ও নতুন দিগন্ত

জ্বালানি কেবল প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স বা আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি মোক্ষম অস্ত্র। যে দেশ জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিশ্বমঞ্চে তাদের প্রভাব অনেক বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বা ওপেকের সিদ্ধান্তগুলো সারা বিশে^র বাজারের তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করে। আবার পাইপলাইন পলিটিক্স বা পাইপলাইনের রাজনীতি দেখিয়ে দিয়েছে যে, জ্বালানি নির্ভরতা কীভাবে একটি দেশের সার্বভৌমত্ব বা পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। এনার্জি ডিপেন্ডেন্সি বা জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে অনেক দেশ এখন লোকাল সোর্স বা স্থানীয় উৎসের দিকে নজর দিচ্ছে এবং নিজেদের এনার্জি সিকিউরিটি বা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

ভবিষ্যতের পৃথিবী কেমন হবে, তা নির্ভর করছে আমাদের এনার্জি ইনোভেশন বা জ্বালানি উদ্ভাবনের ওপর। বিজ্ঞানীরা এখন গ্রিন হাইড্রোজেন নিয়ে কাজ করছেন, যাকে মনে করা হচ্ছে ভবিষ্যতের জ্বালানি। এটি দহনের ফলে কার্বনের বদলে শুধু জলীয়বাষ্প তৈরি করে। এ ছাড়া নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির গবেষণা সফল হলে আমরা প্রায় অফুরন্ত এবং নিরাপদ শক্তির উৎস পাব। জ্বালানি সঞ্চয় বা এনার্জি স্টোরেজের ক্ষেত্রে অ্যাডভান্সড ব্যাটারি টেকনোলজি বা উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি একটি বিশাল পরিবর্তন আনছে। ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা ইভির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে তেলের ওপর নির্ভরতা কমছে। স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে এফিসিয়েন্সি বা দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিদ্যুৎ খাতের একটি বড় অংশ এখনো ন্যাচারাল গ্যাস বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে দেশীয় গ্যাস মজুদ কমে আসায় সরকারকে এখন আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ বর্তমানে নিউক্লিয়ার এনার্জি বা পারমাণবিক শক্তির যুগে প্রবেশ করছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত