নিজের শরীরে স্যালাইন, তবু রোগী দেখছেন চিকিৎসক

রোগীদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের সংখ্যা পর্যাপ্ত না থাকায় রোগীর চাপ বাড়লে সেবা পেতে অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসককে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় তাদের ওপরও বাড়ছে শারীরিক ও মানসিক চাপ।

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ এএম

ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা। ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগীর ভিড়। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষায় রোগী ও স্বজনেরা। এর মধ্যেই খবর আসে, জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে দেওয়া হয় ইনজেকশন ও স্যালাইন। কিন্তু জরুরি বিভাগে তখনও রোগীর চাপ। কিছুক্ষণ পর নিজের হাতে ক্যানুলা লাগানো অবস্থাতেই চিকিৎসকের চেয়ারে ফিরে বসেন তিনি। এক হাতে স্যালাইনের ক্যানুলা, অন্যদিকে মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা-এভাবেই তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের এই ঘটনাটি ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সংকটের চিত্র নতুন করে সামনে এনেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক সংকটে ভুগছে ভোলা জেনারেল হাসপাতাল। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের। একাধিক শিফটে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাদের।

এমন চাপের মধ্যেই শুক্রবার রাতে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. ইরফান মাহমুদ। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত নার্স তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। তবে জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ থাকায় চিকিৎসকের সংকট তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্যালাইন চলমান অবস্থাতেই রোগীদের চিকিৎসা দিতে তিনি ফিরে আসেন।

পরে অন্য একজন চিকিৎসক এসে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব নেন।

ভোলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট নতুন নয়। এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও হাসপাতালটিতে অনুমোদিত পদের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকার তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে হাসপাতালটিতে ৬১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে মাত্র ১৯ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকার তথ্য জানানো হয়েছিল। চলতি বছরও হাসপাতালটিতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ এবং চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে।

রোগীদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের সংখ্যা পর্যাপ্ত না থাকায় রোগীর চাপ বাড়লে সেবা পেতে অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসককে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় তাদের ওপরও বাড়ছে শারীরিক ও মানসিক চাপ।

একজন চিকিৎসক নিজে অসুস্থ হয়ে স্যালাইন চলমান অবস্থায়ও রোগীর চিকিৎসায় ফিরে আসার ঘটনাটি সেই সংকটেরই একটি বাস্তব চিত্র বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত