ধর্ষণ মামলার আপস না করায় ভিকটিম পরিবারকে সমাজচ্যুতের অভিযোগ

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলা আপস না করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সমাজচ্যুত করা, হামলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তা ফারুক মিয়াকে মসজিদে যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনি  সাংবাদিকদের কাছে বিচার দাবি করেছেন এবং কয়েকদিন আগে মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী ফারুক মিয়া উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারুক মিয়ার কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গত ৩ মার্চ রসুলপুর মসজিদের ইমাম মিনহাজুল আবেদিন রায়হান নামের এক ইমামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মাধবপুর থানায় ওই মামলার নম্বর ২। ওই মামলায় ইমাম মিনহাজুল আবেদিন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, মামলা তুলে নিতে স্থানীয় শহীদ মিয়ার ছেলে সালাম মিয়া ও তার সহযোগীরা ফারুক মিয়ার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। গত ৬ মার্চ দুপুরে তাকে মারধর করা হয় এবং ফোনে হুমকিও দেওয়া হয়। ফারুক মিয়ার দাবি, এ সংক্রান্ত কল রেকর্ডও তার কাছে রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, মামলা আপস না করায় প্রভাবশালী সালাম মিয়া ও তার লোকজন তাদের সামাজিকভাবে একঘরে করে দিয়েছে। ফারুক মিয়াকে মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং গ্রামের অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া ও জাহার মিয়া বলেন, ফারুক মিয়ার পরিবারকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। তাকে মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাম মিয়া বলেন, কাউকে একঘরে করা হয়নি। ফারুক মিয়া নিজেও ভালো মানুষ নন। এলাকাবাসী মিলে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাদেশ শ্রমিক মুক্তিজোটের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম খোকন বলেন, কাউকে সমাজচ্যুত করা বা মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী। এটি মধ্যযুগীয় বর্বরতার সামিল। ভুক্তভোগী ফারুক মিয়া একজন শ্রমজীবী ট্রাকচালক। এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব মোরশেদ খান জানিয়েছেন, 'অভিযোগ পেলে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখা হবে।'

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত