কুমিল্লার শপিংমলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

ঈদকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার শপিংমলগুলোতে এখন ক্রেতাদের ঢল নেমেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কেনাকাটার ব্যস্ততা। সকাল থেকেই জমে উঠছে বিপণিবিতানগুলো, আর এই ভিড় রাত গভীর পর্যন্ত অব্যাহত থাকছে। অনেক শপিংমলে সকাল ১টা থেকে শুরু হয়ে কেনাবেচা চলতে থাকে রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত।

নগরীর বিভিন্ন জনপ্রিয় শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, সব জায়গাতেই উপচে পড়া ভিড়। দোকানগুলো সাজানো হয়েছে থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, জামদানি ও শিশুদের আকর্ষণীয় পোশাকে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী, পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ছে। 

নতুন পোশাকের পাশাপাশি ফ্যাশনেবল এক্সেসরিজ ও ঈদের উপহার সামগ্রীর প্রতিও ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে। ক্রেতা আকর্ষণে ব্যবসায়ীরা দিচ্ছেন বিভিন্ন ছাড় ও অফার। একই সঙ্গে দ্রুত ও আন্তরিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে ভিড়ের মধ্যেও কেনাকাটা স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়।

প্রতি বছরের মতো এবারও কিছু শপিংমলে রাখা হয়েছে র‍্যাফেল ড্রয়ের আয়োজন। পণ্য কেনার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে কুপন, যার মাধ্যমে মোটরবাইকসহ নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ ক্রেতাদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা জানান, ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় সবাই মিলে শপিং করতে এসেছেন। শিশুদের মধ্যে লটারির কুপন নেওয়ার ব্যাপারে আলাদা উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের বাজারে পাকিস্তানি ও ফারসি ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা বেশি। এসব পোশাকের দাম তিন হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে পোশাক সংগ্রহ করা হয়েছে।

কুমিল্লা দোকান মালিক ফেডারেশনের নেতারা বলছেন, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি বাড়ছে এবং গতবারের তুলনায় এবার ব্যবসা ভালো হবে বলে তারা আশা করছেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে শপিংমলগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি পুলিশও মাঠে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, রমজানের শুরু থেকেই কুমিল্লার শপিংমলগুলোতে বিরাজ করছে আগাম ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে কেনাকাটার আনন্দে মিশে আছে উৎসবের উচ্ছ্বাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত