বাউবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

দেশের অন্যতম বৃহৎ উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর নতুন উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময় বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাঁর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। 

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এর ধারা ১২(১) অনুযায়ী তাঁকে চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত উপাচার্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এ বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আধুনিক, গতিশীল ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর দূরশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা বাউবিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও উচ্চ মর্যাদায় নিয়ে যেতে চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. খালেকুজ্জামান খান জানান, অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার গলাচিপা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম মো. আবদুল আজিজ খান ও বেগম হালিমা আজিজ দম্পতির পঞ্চম সন্তান।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘নবাবী বাংলার রাজনীতি ও অভিজাত শ্রেণী’।

১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি বর্তমানে অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি কলা অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এবং স্যার পি জে হারটগ ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রভোস্ট ছিলেন।

ড. খানের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র আধুনিক মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ক্রমবিকাশ। দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও তাঁর রয়েছে গভীর আগ্রহ। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তাঁর ৩৫টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৫টি।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশের ইতিহাস ১৯৭২-২০১৪, নবাবী বাংলার অভিজাত শ্রেণী, উসমানী সালতানাত, মুঘল ভারতের ইতিহাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষা ও গবেষণায় শতবর্ষের অর্জন।

তিনি বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (২০১১-২০১৬) এবং বর্তমানে ‘ইতিহাস’ গবেষণা জার্নালের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যক্তিজীবনে তাঁর সহধর্মিণী ড. আলো আরজুমান বানু, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তাঁদের এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে।

অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খানকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট মহলে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে বাউবির শিক্ষা, গবেষণা ও দূরশিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত ও গতিশীল হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত