রাতে ভারী খাবার খেতে চান না। যতটা হালকা খাবার খাওয়া যায়, সেটাই চেষ্টা করেন। কারণ খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম হলেই মাঝরাত থেকে চোয়া ঢেকুর দেওয়া শুরু হয়ে যায়। অনেক সময়ে সাধারণ রুটি-তরকারি খাওয়ার পরও এই সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকরা বলছেন, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে নেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন ঘুমের সময়ে শরীর রেস্টিং মোডে যায়। তখন শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ধীরগতিতে কাজ করে। কিন্তু খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লে, আপনার পাচনতন্ত্র আর বিশ্রাম পায় না। আবার ঠিকমতো সে কাজও করতে পারে না। তাই বেশি রাতে খাবার খেলে বা ভারী খাবার খেলে ঠিকমতো হজম হয় না। সুতরাং তাড়াতাড়ি খাবার খাওয়ার অভ্যাস আপনার হজম স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ জরুরি।
৭-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। কিন্তু মাঝরাতে বদহজম দেখা দিলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অ্যাসিড রিফ্লাক্স হলেই ঘুম ভেঙে যায়। বারবার বাথরুমে ছুটতে হয়। এমন সমস্যা প্রায় দিন হলে ঘুমের মান নষ্ট হতে থাকে। আর রাতে ভালো ঘুম না হলে পরদিন শরীরে কাজ করার এনার্জি পান না। সারাদিন ঝিমিয়ে থাকেন। তাই এই অভ্যাস একেবারেই ভালো নয়।
যত ঘুমের সময় কাছে আসতে থাকে, বিপাক হার কমতে থাকে। ঘুমানোর সময়ে ডিনার করলে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না। পাশাপাশি কম বিপাক হারের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়ে। যে কারণে ডিনার শেষে ১৫-৩০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
দেরিতে ডিনার করলে হার্টের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। হার্টের স্বাস্থ্য খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, মানসিক চাপ, ঘুম এবং মেটাবলিজমের মতো একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে ডিনার করলে কার্ডিওমেটাবলিক বিঘিœত হয়। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না। শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। মানসিক চাপ তৈরি হয়। এমনকি রক্তচাপও বাড়ে। আর এই বিষয়গুলোই হার্টের সমস্যা ডেকে আনে।
