বাংলাদেশেসহ এশিয়ায় যখন ৩০ রমজান চলছে তখন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। আর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। দেশ রূপান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও চিত্র
বগুড়া
বগুড়ার গাবতলীসহ তিনটি স্থানে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। শুক্রবার সকালে (২০ মার্চ) গাবতলী উপজেলার রেল স্টেশন মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ইসলামী সমাজ সংস্কার আন্দোলনের প্রায় অর্ধশত মুসল্লিরা ঈদের জামাত আদায় করেন।
ঈদ জামাতের ইমামতী করেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আজোয়ার পাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লাইলাতুল কদর। এখানে পুরুষদের পাশাপাশি নারী জন্যও আলাদাভাবে ঈদ জামাতের ব্যবস্থা ছিল।
জামাতের ইমাম মাওলানা লাইলাতুল কদর বলেন, ধর্মীয় রীতিনীতি মেনেই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস মেনে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে।
নামাজের অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাবার সঙ্গে নামাজ পড়েছি ছোটবেলায়, বাবা যেমন সৌদির সঙ্গে ঈদ করেছেন আমরাও করছি।
চাঁদপুর
এবারও আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফসহ জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা মাঠে আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, ভোলাচোঁ, ঝাকনি, সোনাচোঁ, প্রতাপপুর ও সুরঙ্গচাইলসহ বিভিন্ন গ্রাম, পাশাপাশি ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তর উপজেলার কয়েকটি গ্রামেও একইভাবে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে।
আড়াইহাজর
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের দুটি স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে দুটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন জামাত হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত রাধানগর এলাকায় সুরেশ্বর খানকা শরীফে প্রায় ২৩০ থেকে ২৫০ জন মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। এই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় থেকে ১১টার মধ্যে ঝাউকান্দী গ্রামে খাজা আহম্মেদ নূরী খানকা শরীফে আরও একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মুসল্লি অংশ নেন।
গৌরীপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে অবস্থিত সুরেশ্বর দরবার শরীফে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দরবার প্রাঙ্গণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সিকান্দার আলী।
ঈদের এই বিশেষ জামাতে ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা যেমন ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, ফুলপুর, হালুয়াঘাট ও শম্ভুগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশত আশেকান, মুরিদান ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও নারীদের জন্য পৃথকভাবে ঈদের নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রাখা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে প্রশংসা কুড়ায়।
পিরোজপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) পিরোজপুরের তিন উপজেলার ১০ গ্রামের ৮ শতাধিক পরিবার ঈদ পালন করছেন।
এলাকার ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী এলাকার মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সকাল সাড়ে ৮টায় মঠবাড়িয়া উপজেলার কচুবাড়িয়া গ্রামের হাজী ওয়াহেদ আলী হাওলাদার বাড়িতে, নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আল-আমি মসজিদে সকাল ৮টায় এবং মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামের খন্দকার বাড়িতে সকাল ১০টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়রা জানায়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া, কচুবাড়িয়া, সাপলেজা, ঝাটিবুনিয়া, খেতাছিড়া ও চকরগাছিয়া ছয় গ্রামের প্রায় ৬ শতাধিক পরিবার, কাউখালী উপজেলার বেতকা, শিয়ালকাঠী ও পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৭৫/৮০ পরিবার এবং নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের ৫০ পরিবার এই ঈদ পালন করছেন।
কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের ইমামতি করেন মাওলানা মহিউদ্দিন। পাশাপাশি নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আল-আমিন জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা কামরুজ্জামান।
কুড়িগ্রাম
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কুড়িগ্রামের কয়েকটি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ফুলবাড়ী, রৌমারী, রাজীবপুর, ভূরুঙ্গামারী, চিলমারী ও চর রাজীবপুর উপজেলার অন্তত ছয়টি গ্রামে ধর্মীয় উৎসবমুখর পরিবেশে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে এসব এলাকায় ঈদের জামায়াতে মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। ফুলবাড়ী উপজেলার জেলেপাড়া আহলে হাদিস জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আব্দুল মালেক এবং শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া ফুলবাড়ীর জেলেপাড়া ও হাজীর বাজার জামে মসজিদ, রাজীবপুর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামের মদিনাতুল উলুম মডেল মাদরাসা, রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া জামে মসজিদসহ অন্যান্য এলাকায় পৃথকভাবে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
গাইবান্ধা
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করেছে কয়েকটি গ্রামের কিছু মুসল্লি। দেশের প্রচলিত নিয়মানুসারে এলাকায় একদিন আগেই ঈদ পালন করায় স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার সহিহ হাদিস সম্প্রদায়ের মুসল্লিরা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মধ্যপাড়ার ছাদে নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজে ইমামতি ও খুৎবা পাঠ করেন আমিনুল ইসলাম।
এর আগে সকাল থেকেই জেলার সদর উপজেলার,পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হেঁটে, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল নিয়ে তালুক ঘোড়াবান্ধা মধ্যপাড়ায় জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা স্থানীয় একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের ছাদে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।
নামাজে আসা তালুকঘোড়াবান্ধা গ্রামের সাহারুল ইসলাম একই গ্রামের সোলায়মান বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ পড়তেই আজ সকালে এখানে আসছি। সবাই মিলে ঈদুল ফিতর আদায় করলাম। এভাবেই ১০ বছর ধরে ঈদ করে আসছি।
একই গ্রামের মোস্তফা বলেন, আমাদের গ্রামের ৮-১০টি পরিবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছি।
গাইবান্ধা উপজেলার সদর উপজেলার হাসপাতাল বালুয়া এলাকার সেলিম (৪৫) বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আমার গ্রামে আমি ও আমার পরিবার মিলে সৌদির সাথে মিল রেখে নামাজ আদায় করি।
বিরামপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুরের সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার (২০ মার্চ) আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিদের একটি অংশ। জেলার বিরামপুর, চিরিরবন্দর, সদর, পার্বতীপুর, কাহারোল, বোচাগঞ্জ ও বিরল উপজেলার কয়েকটি স্থানে পৃথক জামাতে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ২ হাজার পরিবারের সদস্য অংশ নেন।
বিরামপুর উপজেলার খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর জামে মসজিদ ও আয়ড়া মাদরাসা মাঠে সকাল ৮টায় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১৫টি গ্রামের মুসল্লিরা অংশ নেন। ইমামতি করেন দেলোয়ার হোসেন কাজী ও হাফেজ আল আমিন।
চিরিরবন্দর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের চিরিনদী ঈদগাহ মাঠে সকাল ৯টায় আরেকটি জামাতে শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। এ ছাড়া দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির একটি কমিউনিটি সেন্টারেও পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে সময়ের ব্যবধান কম হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। বিরামপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জামাতগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
মাদারীপুর
মাদারীপুরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করেছেন কিছু গ্রামের কয়েক শ মানুষ। সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান ও প্রথম জামাত।
জামাত পড়ান চরকালিকাপুর ফরাজী বাড়ি জামে ইমাম মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান। ঈদের জামাত শেষে একে অপরে সাথে কোলাকুলি করে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। ঈদের জামাত নির্বিঘ্নে সম্পন্নের লক্ষে পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দায়ীত্ব পালন করেন।
জানা যায়, সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরীর (রহ.) অনুসারীরা প্রায় দেড় শ বছর আগ থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদ দেখা সাপেক্ষ্যে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মিল রেখে মাদারীপুরের চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, বাহেরচর, চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, দৌলতপুর, হোসনাবাদ, রঘুরামপুর, কেরানীরবাট, রমজানপুর, কয়ারিয়া, রামারপুল, সাহেবরামপুর, আন্ডারচর, খাসেরহাটসহ জেলার কিছু গ্রামের কয়েকশো মানুষ ঈদ উৎসব পালন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সুরেশ্বর দরবার শরীফের মুরিদ সাগর দেওয়ান জানান, পূর্ব পুরুষদের প্রথা অনুসারে এই ঈদ উৎসব পালন করা হচ্ছে। বছরে দুটি ঈদ ও রোজা পালন করা হয়। এতে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।
আঙ্গুলকাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই প্রবীর কুমার রায় বলেন, ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষে আমরা দায়িত্ব পালন করছি।
সাতকানিয়া
দীর্ঘ প্রায় দুই শতাব্দীর প্রথা বজায় রেখে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফে ৩০ রোজা পূর্ণ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দরবারের মুখপাত্র মো. মছউদুর রহমান।
জানা গেছে, মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা শুধু সাতকানিয়া এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তৃত এলাকায় তাদের উপস্থিতি রয়েছে। সাতকানিয়ার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, গারাঙ্গিয়া, চরতি, মনেয়াবাদ, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, আমিলাইশ, খাগরিয়া ও গাটিয়াডাঙ্গা ছাড়াও লোহাগাড়া উপজেলা, বাঁশখালী উপজেলা, আনোয়ারা উপজেলা এবং পটিয়া উপজেলা-এর বিভিন্ন ইউনিয়নে তাদের বসবাস।
দরবার সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব এলাকায় মিলিয়ে লক্ষাধিক ভক্ত ও অনুসারী রয়েছেন, যারা প্রতিবছর একই নিয়মে রোজা ও ঈদ পালন করেন।
দরবার সূত্রে জানা যায়, মির্জাখীল দরবার শরিফ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখার হিসাব—বিশেষ করে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা—এর উপর নির্ভর করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। প্রায় ২০০ বছর ধরে চলে আসা এই প্রথা স্থানীয়ভাবে একটি স্বতন্ত্র ধর্মীয় চর্চা হিসেবে পরিচিত।
বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীনের (ক.) নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে অনুসারীরা এ নিয়ম মেনে চলছেন। তার প্রদর্শিত পথ অনুযায়ী, আরব বিশ্বে চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা রোজা শুরু করেন এবং একইভাবে রোজা শেষ করে ঈদ উদযাপন করেন।
দরবার শরিফের মুখপাত্র মো. মছউদুর রহমান জানান, আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে চলে আসা নিয়ম অনুযায়ী আমরা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোজা শুরু ও শেষ করে থাকি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও বৃহস্পতিবার আমাদের ৩০ রোজা পূর্ণ হয়েছে এবং শুক্রবার আমরা ঈদ উদযাপন করব।আমরা হানাফি মাজহাবের অনুসারী হলেও চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক তথ্যকে গুরুত্ব দিই। বিশেষ করে মক্কা-মদিনায় চাঁদ দেখা গেলে আমরা তা গ্রহণ করি। আমাদের কাছে এটি ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘদিনের চর্চিত পদ্ধতি।
