প্রতিরোধের মুখে লেজ গুটাচ্ছে ট্রাম্প

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান 'ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার' বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অন্যান্য দেশগুলোকেই নিতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, তিনি যুদ্ধবিরতির পক্ষে নন। তার ভাষায়, 'যখন আপনি প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছেন, তখন যুদ্ধবিরতি হয় না।'

সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাতে পারবে—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। এই প্রণালিটি বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। এই সংকটই তার সম্ভাব্য 'বিজয় ঘোষণা'র পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নয়। তিনি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোর প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কিছু দেশের অনীহাকে 'ভীরুতা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে বাস্তবতা হলো, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং ওয়াশিংটন থেকে টোকিও-বিশ্বজুড়েই জ্বালানির বাজারে এর প্রভাব পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয় যে পরিস্থিতি তার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি জটিল হয়ে উঠেছে এবং এই সংকট একা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সমাধান করা কঠিন হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত