যুদ্ধ বন্ধে বড় অগ্রগতি

ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে জোরালো ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে দেশ দুটির শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি বৈঠকে মিলিত হতে পারেন।

ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্ক, মিসর এবং কাতারও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। হোয়াইট হাউসের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। তবে সোমবার সকালে ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানান, গত দুই দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারার পরিপ্রেক্ষিতে আমি যুদ্ধ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি যাতে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো সামরিক হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়।

যদিও ট্রাম্প এই আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে দাবি করছেন, তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আপাতত সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, ট্রাম্প জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণ করতে চাইছেন। তবে নিরপেক্ষ সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধের সমাপ্তি এবং ঝুলে থাকা ইস্যুগুলো সমাধানের লক্ষ্যেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

এই আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। মিসরসহ প্রতিবেশী দেশগুলো জোর দিয়ে বলেছে যে, সংঘাতের বিস্তার রোধ করা এই মুহূর্তে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত