জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা ফিলিপাইনের

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:১৬ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ বিঘিœত হওয়ায় যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে, ফিলিপাইন তাদের মধ্যে অন্যতম।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের প্রয়োজনীয় তেলের ৯৮ শতাংশই পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। গত তিন সপ্তাহে ফিলিপাইনের সাধারণ মানুষ কয়েক দফা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কবলে পড়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাহী এক আদেশে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দেশের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘আসন্ন বিপদের’ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ ঘোষণার ফলে জ্বালানি স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা পাবে সরকার।

আদেশে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুশৃঙ্খল বণ্টন তদারকি করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া মজুদ বাড়ানোর জন্য সরাসরি জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী ফিলিপাইনের কাছে আর মাত্র ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদ রয়েছে। প্রেসিডেন্টের এ আদেশ এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি এ সময়সীমা বাড়াতে বা প্রত্যাহার করতে পারবেন। এদিকে যুদ্ধের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর এশিয়া জুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সামাল দিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ নতুন নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং গতকাল মঙ্গলবার দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয় অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় যাত্রীবাহী গাড়ির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড সরকার গতকাল জানিয়েছে, তারা প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কর্মজীবী পরিবারকে প্রতি সপ্তাহে ৫০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেবে। যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, তা লাঘব করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী ৭ এপ্রিল থেকে এই ভর্তুকি দেওয়া শুরু হবে। এটি প্রায় এক বছর বা তেলের দাম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে শ্রীলঙ্কা কর্র্তৃপক্ষ প্রতি বুধবারকে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে দেশটিতে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হলো।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত