ঈদের ছুটির মধ্যে বিসিবিতে রদবদল

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটির মধ্যেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে। ব্যক্তিগত কারণে বিসিবি পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আমজাদ হোসেন। তার আগে বিসিবি’র মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আমজাদকে। নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয় মোখছেদুল কামাল বাবুকে, তিনি এর আগে মিডিয়া কমিটি’র ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। নতুন নির্বাচক কমিটিও ঘোষণা করেছে বিসিবি। প্রধান নির্বাচক হিসেবে অনুমিত ভাবেই দায়িত্ব পেয়েছেন হাবিবুল বাশার সুমন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নির্বাচক প্যানেলে ২ জনের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হলেও বিসিবি নতুন নিয়োগ দিয়েছে ৩ জনকে। হাবিবুল বাশারকে প্রধান নির্বাচক করার পাশাপাশি নির্বাচক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরীকে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ৪ সদস্যের নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করেছে বিসিবি। নির্বাচকদের জাতীয় দলের খেলোয়াড় বাছাইয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় বাছাই করতে হবে নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রথম শ্রেণির এবং স্বীকৃত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের জন্যও, জানিয়েছেন বিসিবি’র ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকে প্রধান নির্বাচক করে যে ৪ সদস্যের নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করেছে বিসিবি, তাতে নির্বাচক হিসেবে আরও আছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন, ঘরোয়া ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় খেলা ব্যাটসম্যান নাঈম ইসলাম ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করা নাদিফ চৌধুরী। নির্বাচকের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে ফাহিম দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘নির্বাচকদের এখন শুধু জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় বাছাই করলেই হবে না, তাদের আমরা আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের যে ৪টা জোন আছে; তাদের সেই জোনের জন্যও দল গঠন করতে হবে। একেকজন নির্বাচক একেকটা জোনের দায়িত্ব নেবেন। এটা আমাদের ক্রিকেট বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়ারই একটা অংশ। আগে সবকিছু কেন্দ্রীয় ভাবে করা হতো, দল গঠনের পর কারও কোনো দায়িত্ব থাকত না। এখন নিজ নিজ জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচকরা সেই দলের কোচ, খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন, তাদের একটা জবাবদিহির মধ্যে নিয়ে আসা হবে।’ ফাহিম জানিয়েছেন, হাবিবুল বাশারকে খুলনা-বরিশাল অঞ্চল অর্থাৎ সাউথ জোন, হাসিবুল হোসেনকে সিলেট-চট্টগ্রাম অর্থাৎ ইস্ট জোন, নাঈম ইসলামকে রাজশাহী-রংপুর অর্থাৎ নর্থ জোন ও নাদিফ চৌধুরীকে ঢাকা-ময়মনসিংহ অঞ্চল অর্থাৎ সেন্ট্রাল জোনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ জোনে খেলার এবং এই অঞ্চলের ক্রিকেট অবকাঠামো ও খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় এভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

৪ জন নির্বাচক হওয়াতে কোনো খেলোয়াড়কে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে নির্বাচকদের ভেতর মতের ‘টাই’ হয়ে যেতে পারে, ২ জন করে নির্বাচক পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিলে তৈরি হতে পারে স্থিতাবস্থা। এর উপায় এখনো চূড়ান্ত না করলেও ‘টাইব্রেকার’-এর কৌশল ভেবে রেখেছেন বলেই জানিয়েছেন ফাহিম, ‘এটার ব্যবস্থা এখনই বলছি না তবে এ রকম পরিস্থিতিতে কী হবে সেটা ভেবে রাখা আছে। হয়তো প্রধান কোচ বা টিম ম্যানেজমেন্টের মতামত নেওয়া হবে বা সে রকম কিছু, এখনো চূড়ান্ত হয়নি তবে পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দল নির্বাচনের সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন হাবিবুল বাশার। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়ার পর গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটিতে ছিলেন না তিনি। সে সময় নারী ক্রিকেট, গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগসহ ক্রিকেটের অন্যান্য শাখা প্রশাখায় বছর দুয়েক সময় কাটিয়ে ফের দল নির্বাচনের গুরুদায়িত্বে হাবিবুল, তার মেয়াদ শুরু হচ্ছে ১ এপ্রিল থেকে। ঈদের ছুটির পর মঙ্গলবার বিসিবি কার্যালয়ে এসে সাংবাদিকদের হাবিবুল জানিয়েছেন, ‘এক্সাইটেড ডেফিনেটলি। এই বছর তো বাংলাদেশ দলের অনেক খেলা, অনেক চ্যালেঞ্জ। ওয়ার্ল্ডকাপ। সঙ্গে আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনেকগুলো। এবং সব বড় বড় দলের সঙ্গে। বড় সিরিজ। তাই ভালো করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিক থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং নিশ্চিতভাবেই নির্বাচকদের কাজটা তো অনেক দায়িত্বের একটা জায়গা। আমি আশাবাদী। দেখা যাক কী হয়। ভালো কাজ করব আশা করছি।’

জাতীয় দলে নাদিফ বাদে বাকি দুজনকেই সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন হাবিবুল। নিজের ‘দল’ নিয়ে সাবেক অধিনায়ক বললেন, ‘অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের ভালো মিশ্রণ আছে এখানে। যারা এসেছেন নতুন এসেছেন। হাসিবুল হোসেন শান্ত তো আগে থেকেই কাজ করছিল। বাকি যে দুজন এসেছেন, নাঈম ইসলাম অনেক অভিজ্ঞ। জাতীয় দলে খেলেছেন এবং লম্বা সময় ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন।

নির্বাচিত হওয়ার মাস ছয়েকের মাথায় বিসিবি থেকে সরে গেলেন আমজাদ। ইশতিয়াক সাদেকের পর আমজাদও পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোয় বিসিবি’র পরিচালক সংখ্যা কমে হয়েছে ২৩। সোমবার গণমাধ্যমকে আমজাদ জানিয়েছেন, ‘কারণটি পুরোই আমার ব্যক্তিগত। আপনারা জানেন, আমাদের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১৬ এর ছ-তে (আছে) পরিচালনা পরিষদ চাইলে কোনো স্থায়ী কমিটি চাইলে পুনর্গঠন, পুনর্বিন্যাস করতে পারবে। হয়তো পরিচালনা পরিষদ মনে করেছে, আমি যে কমিটির দায়িত্বে ছিলাম সেটি পুনর্বিন্যাস করার। পরিচালনা পরিষদ যখন মনে করেছে, হয়তো-বা আমার সার্ভিস প্রয়োজন হবে না। তারপর থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমাকে তো বলা হয়নি ঠিক কী কারণে (বাদ দেওয়া হয়েছে)। আমাকে বলা হয়েছে এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত, তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার সম্মান থাকবে। সেটা আমি মেনে নিয়েছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত