শিশুশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০৩ এএম

শিশুশিক্ষা আর স্বাস্থ্যসেবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতির সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে শিশুর স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর গুরুত্বের কথা বলেছেন ডা. জুবাইদা রহমান। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে’ দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আমন্ত্রণে জুবাইদা অংশ নিয়েছিলেন দুদিনের সম্মেলনে। সামিটে তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিশুর জীবন বিকাশের মাধ্যমে। আজ আমরা যে যতœ করি, শিক্ষায় যা বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি তা-ই আগামী দিনে জাতিকে গড়ে তোলে। বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিএনপি সরকার কাজ করছে। তিনি ওয়ার্কিং সেশনে বলেন, শিশুদের উন্নয়নে বৈশি^ক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও  অংশীদারদের একত্র করার জন্য তিনি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ শিশুর যতœ, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বর্তমান বিএনপি সরকারের বিভিন্নমুখী কর্মসূচির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি শিশুদের ভবিষ্যৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার। জোর দেওয়া হয়েছে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত পরিবার-পরিজনকে ক্ষমতায়নের কেন্দ্রে তুলে আনার। ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড এই পদক্ষেপেরই অংশ। পরিবার যদি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেখানে শিশুর পরিচর্যা হবে সব থেকে ভালো। আবার একই সঙ্গে শিশু শিক্ষার ব্যাপারে তৃণমূলের বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের পরিচর্যা ভালো পাঠদানের জন্য হবে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা চাই প্রতিটি প্রাইমারি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন গড়ে তোলা হোক স্বাস্থ্যসেবার ক্লিনিক, যাতে নিত্যদিনের অসুখ-বিসুখে তারা হাতের নাগালে পেতে পারে চিকিৎসাসেবা।’

শিশুশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা অঙ্গাঙ্গি বিষয়। এটা সরকারকে ভাবতে হবে। আমাদের দেশে আজও অনেক গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। তারা এমনিতেই শিক্ষাবঞ্চনার শিকার। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করার পাশাপাশি সরকারকে আয়োজন করতে হবে স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার। ডাক্তার, নার্স, ওষুধপত্র, সেবাদানকারীসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও টেকনিশিয়ানদের নিয়োগ দিতে হবে। শুধু নিয়োগদানে দায়িত্ব শেষ নয়, তারা যাতে সেখানে উপস্থিত থাকে ও থাকতে বাধ্য হয়, সেটা মনিটরিং করতে হবে নিবিড়ভাবে। আমরা একটি স্বাস্থ্যবান জাতি যেমন গড়ে তুলতে চাই, তেমনি তৃণমূলের শিশুদের সাংবিধানিক অধিকার কায়েমের দৃশ্যমান উন্নতি দেখতে চাই এটাই জাতির প্রত্যাশা।

সন্দেহ নেই, শিশুশিক্ষা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপারে আমাদের বিপুল ঘাটতি রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে উন্নত বিশে^র পদ্ধতিগত জ্ঞান নেওয়া যেতে পারে। সম্পদ কম হলেও শিশুদের ভবিষ্যৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এই সেক্টরে জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে অনুন্নয়ন খাতের ব্যয় বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের গড়ে তোলার অঙ্গীকার জরুরি। এ ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তি সহায়তা নিতে হবে। আমরা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্যাবলেট দিলেও এটা মনে রাখতে হবে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ছাড়া তারা ওই যন্ত্র থেকে তেমন উপকার পাবে না। গ্রুপভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষা এবং শিশুর মানসিক পরিচর্যার ব্যাপারে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা কোনো ছোট ও হালকা বিষয় নয় এটা সরকারের দায়িত্বশীলদের অনুধাবন করতে হবে। উন্নত জাতিসত্তা গড়ে তোলার এ কাজ তারেক রহমানের হাত দিয়েই হবে এটা আমরা বিশ্বাস করি। কারণ তার মূল শক্তি জনভিত্তি। তিনি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে জাতির কর্ণধার হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। তাকে হেরে গেলে চলবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত