ভাইপার শার্ক
অনেকটা সাপের মতো দেখতে। অথচ সাপ নয়। এমনই একটি সামুদ্রিক প্রাণীকে নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জীববিজ্ঞানী মহলে। কদাকার সেই প্রাণীর ছবিটিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াও তোলপাড়। অদ্ভুত দেখতে প্রাণীটি তাহলে কী? কয়েক বছর আগে তাইওয়ানে সমুদ্রের নিচে প্রাণীটিকে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। আর তারপর থেকেই বিজ্ঞানী মহলে সাড়া পড়েছে। প্রথম দেখাতেই প্রাণীটিকে কোনো নতুন প্রজাতির সাপ মনে হতে পারে। অনেকটা একই রকম চেহারা। বিজ্ঞানীরাও সেটিই ভেবেছিলেন। পরে অবশ্য ভুল ভাঙে তাদের। অনেক গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, ওটা আসলে কোনো সাপ নয়। সেটি হচ্ছে বিরল প্রজাতির ‘ভাইপার শার্ক’। এই হাঙর এত বিরল যে, শেষবার দেখা মিলেছিল ১৯৮৬-তে জাপানের শিকোকু দ্বীপে। বিজ্ঞান জগতে এখন এর নাম ‘ট্রাইগোনোগন্যাথাস কাবেয়াই’। ভয়ংকর চেহারার জন্য এমন হাঙরকে ‘এলিয়েন ফিশ’ এবং ‘ফিশ ফ্রম হেল’ বা নরকের মাছ বলা হয়। সমুদ্রের এক থেকে দেড় হাজার ফুট নিচে থাকে এরা। বড় বড় চোখ, সুচালো বাঁকানো দাঁত। শিকার ধরার সময় দাঁতগুলো মুখগহ্বর থেকে অনেকটা বাইরে বেরিয়ে আসে। এরা নিজের শরীরের আকৃতির তুলনায় বড় ধরনের মাছ শিকার করতে পারে। ভাইপার শার্ক মূলত গভীর সমুদ্রের ছোট হাড়যুক্ত মাছ এবং স্কুইড খেয়ে জীবনধারণ করে। এদের ধারালো, সুচালো দাঁত এবং প্রসারিত চোয়াল ব্যবহার করে এরা নিজের আকারের অর্ধেক পর্যন্ত শিকার গিলে খেতে পারে। বিশেষ করে, লণ্ঠন মাছ বা ল্যান্টার্নফিশ এদের প্রিয় খাবার। সাধারণত এদের আয়ু সম্পর্কে খুব কম জানা যায়। তবে এদের আত্মীয় প্রজাতি গ্রিনল্যান্ড হাঙর, শত শত বছর বাঁচে।