স্বামীর নিষেধ উপক্ষো করে ভোট দেওয়ার অপরাধে তালাক দেওয়া ফেনীর গৃহবধূ বিবি জহুরার সংসার এখনও জোড়া লাগেনি। সামাজিক যাতাকলে পড়ে অনিশ্চিত জহুরা ও তার তিন সন্তানের ভবিষ্যত। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আলাদাভাবে বসবাস করছে জহুরা পরিবার। তিন সন্তান নিয়ে জহুরা বসবাস করছেন শাশুড়ির সঙ্গে। আর এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে ইসমাইল হোসেন কাওসার বাড়ি ছাড়া হয়ে অন্যত্র জীবনযাপন করছেন। সংসার পুনঃস্থাপনের জন্য আলেম প্রতিনিধি ও সমাজপ্রতিনিধিরা কাজ করছেন বলে জানান এলাকাবাসী।
এদিকে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় জহুরার সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব। এ সময় তিনি জহুরা ও তার শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলে জানান, আমরা বিএনপি পরিবারের ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে জহুরাকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া তার পরিবারের খরচ বহনে প্রতি মাসে অর্থ সহায়তা ও তিন সন্তানের পড়ালেখার খরচ নিয়মিত দেওয়ারও আশ্বাস দেন বিপ্লব।
তিনি জানান, জহুরার পরিবারের বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী ফলোআপে রেখেছেন। আগামী সপ্তাহে আমরা বিএনপি পরিবারের নেতৃবৃন্দ ফেনী সফরে আসবেন জানিয়ে বিপ্লব বলেন, এ সময় জহুরার পরিবারের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হবে। আর তিন সন্তান ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংসার পুনঃস্থাপনে সবার সহযোগিতা চাইলেন গৃহবধূ জহুরা।
এ সময় ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, ধর্মপুর ইউনিয়ন সভাবায় অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার সহ বিএনপি যুবদল, ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দিতে যাওয়ায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন কাওসার তার স্ত্রী বিবি জহুরাকে তালাক দেন। এ খবরে স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটক রাখে। স্ত্রীকে দেওয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নিবে এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। কাওসার এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে।
এরপর তিন সন্তান নিয়ে জহুরা পড়েন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে। এলাকাবাসী জানান, জহুরাকে ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে কাওসার। কিন্তু জহুরা প্রথমবার ভোটার হওয়ায় উৎসাহের সাথে তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন সকাল সাড়ে ৯টায়। তাও ধানের শীষ প্রতীকে। তখন কাওসার ঘুমে ছিলেন। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে কারও থেকে জানতে পারেন তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এ খবর শুনে মাগরিবের সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন ভোটের বিষয়ে। জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন কাওসার। এ সময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতে বারণ করেন।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার। এর মধ্যে তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮), ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান জন্ম নেয়। কাওসার আওয়ামী লীগ সময়ে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করতেন বলে জানা যায়। পিতার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার ফেনী শহরের রেল গেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতেন।
