দুই দলের জার্সি 'একইরকম'; সতীর্থদের চিনতে পারছিলেন না পুলিসিচরা!

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

ফুটবল মাঠে মুহূর্তের ব্যবধানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু আটলান্টার প্রীতি ম্যাচে সেই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েই হিমশিম খেলেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ, ওয়েস্টন ম্যাককেনিরা। প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামের জার্সির রঙের সাথে নিজেদের জার্সির অদ্ভুত মিল থাকায় সতীর্থদের খুঁজে পেতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে আমেরিকান ফুটবলারদের।

৫-২ গোলে হারের পর এই জার্সি বিভ্রাট নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন তারকারা। ম্যাচ শেষে হতাশ পুলিসিচ বলেন, “সহজাতভাবেই বল পাওয়ার পর আমরা জার্সির রং দেখেই পাস দিই। কিন্তু যখন দুই দলের জার্সির রঙে খুব বেশি পার্থক্য থাকে না, তখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনটা হওয়া মোটেও উচিত ছিল না।”

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নাইকি জার্সিতে ছিল লাল ও সাদা আড়াআড়ি স্ট্রাইপ, যা অনেকটা ১৯৯৪ বিশ্বকাপের জার্সির আদলে তৈরি। অন্যদিকে বেলজিয়ামের অ্যাডিডাস অ্যাওয়ে জার্সিটি ছিল ‘ফ্রোজেন ব্লু’ এবং গোলাপি রঙের সংমিশ্রণে তৈরি এক বিমূর্ত শিল্পকর্ম। দূর থেকে এই দুই রঙের পার্থক্য বোঝা খেলোয়াড়দের জন্য ছিল দুঃসাধ্য।

মাঝমাঠের তারকা ওয়েস্টন ম্যাককেনি জানান, এই বিভ্রান্তির কারণে মাঠের খেলায় প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, “মাথা তুলে এক পলক দেখেই সতীর্থকে চেনার উপায় ছিল না। ফলে বল পায়ে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নিতে হয়েছে, যা প্রতিপক্ষকে সুবিধা করে দিয়েছে।”

ইউএস সকার ফেডারেশনের দাবি, ম্যাচের অনেক আগেই দুই দল তাদের জার্সির পরিকল্পনা একে অপরকে জানিয়েছিল এবং ম্যাচ অফিশিয়ালরা তা অনুমোদনও দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথমার্ধেই যখন এই সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে, তখন কোনো দলের কাছেই বিকল্প জার্সি ছিল না যা বিরতির সময় বদলে নেওয়া যেত। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীল শর্টস এবং বেলজিয়ামের সাদা শর্টস দেখে কোনোমতে খেলোয়াড়দের চিনতে হয়েছে।

মঙ্গলবার পর্তুগালের বিপক্ষে পরবর্তী প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গাঢ় নীল রঙের বিকল্প জার্সিটি পরবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আটলান্টার এই তেতো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে অন্তত জার্সি নিয়ে কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না আয়োজকদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত