পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। প্রতিশোধ হিসেবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা শুরু করে তেহরান। এক মাসে গড়ানো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। বিশেষ করে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর পর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে তেল আবিব। ফলে হামলা ঠেকাতে রীতিমতো বেকায়দায় ইসরায়েলের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েল নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারে রেশনিং পদ্ধতি আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের দিক থেকে আসা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তেল আবিবকে তাদের সবচেয়ে উন্নত ‘অ্যারো’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ সিস্টেম ব্যবহার করতে হচ্ছে। একেকটি ‘অ্যারো’ ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের পেছনে কয়েক লাখ ডলার খরচ হয়।
টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মিসাইল খরচ করতে হচ্ছে ইসরায়েলকে। ফলে ক্রমাগত ইরান ও তাদের মিত্রদের হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে তেল আবিবের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুতও বিপজ্জনক হারে কমছে।
শুধু তাই নয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ায় বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতিতে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে ইসরায়েল। সেজন্য বেছে বেছে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে হচ্ছে তেল আবিবকে। মূলত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে- এমন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহের হামলায় দেখা গেছে, ইরানি ড্রোন ও মিসাইল মাঝে মাঝেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এর প্রধান কারণ তেল আবিবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অত্যধিক চাপ এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের স্বল্পতা।
