জুলাই সনদ বাস্তবায়ন-সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার)’ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এই কমিটির মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে জনপ্রত্যাশিত সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন ও পাসের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক বিষয়ে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আজকে যে নোটিশটি বিরোধীদলীয় নেতা উত্থাপন করেছেন, তার মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে— সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে। প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিষদের অধিবেশন কেন রাষ্ট্রপতি আহ্বান করলেন না? এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অন্তহীন প্রতারণার দলিল।"

রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা ও আইনি বৈধতা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর রাষ্ট্রপতির আর আদেশ জারির ক্ষমতা রইল না। তারপরও রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করলেন কীভাবে? যেই আদেশের জন্মই বৈধ হলো না, সেই আদেশ লিগ্যাল ল্যাঙ্গুয়েজে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ (Void ab initio) বা সূচনা থেকেই অবৈধ। এই আদেশটি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ না হওয়ার কারণে সংসদের প্রথম দিনে উপস্থাপন করা হয়নি।"

গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে তিনি বলেন, "সারা জাতির মধ্যে একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কার চায় না বা বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ মানে না। আমরা জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে ছিলাম এবং আছি। এই সনদের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ ও বাক্য আমরা ধারণ করি। কিন্তু যে আদেশটি (সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ) নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, সেটি আমরা মানছি না কারণ এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।"

গণভোটের ব্যালট নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "গণভোটের ব্যালটে চারটি প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল এবং জনগণকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই চারটির মধ্যে তিনটি প্রশ্নের সাথে জুলাই জাতীয় সনদের মিল আছে, কিন্তু একটির সাথে নেই। আপনি জাতিকে এভাবে জোর করে কোনো আইন গেলাতে পারেন না।"

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "অস্তিত্বহীন একটি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো আইনি বিধান ছিল না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথের ফর্ম সংসদে পাঠানোর এখতিয়ার রাখেন না। এটি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।"

সর্বশেষ, রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার প্রতিপালনের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "আমরা সরকারি দল, বিরোধী দল সবাইকে নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে সমঝোতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংশোধনী আনতে চাই। তাই আমি সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) পক্ষে প্রস্তাব রাখছি— সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হোক। ওই কমিটিতে সবার আলোচনার ভিত্তিতে একটি সংবিধান সংশোধনী বিল এই মহান সংসদে উত্থাপন ও গ্রহণ করা হোক।"

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত