ইরানে হামলা করে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। তাই এই অভিযান বন্ধ করতে চায় মার্কিন প্রশাসন। যদিও তাদের ভাষ্যমতে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোয় এখন যুদ্ধ শেষ করার কথা ভাবছে তারা। তবে এর মধ্যে ইরান কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলেও মার্কিন প্রশাসন পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইরানের উদ্দেশ্যে কঠোর হুশিয়ারি দেয়া ট্রাম্পও সুর নরম করেছেন। ইরানে চলমান সামরিক অভিযান আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা ইরানে আমাদের আক্রমণাত্মক কার্যক্রম গুটিয়ে আনছি। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযান শেষ হবে বলে আমি আশা করছি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে কোনো চুক্তিতে আসতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে কোনো সমঝোতা ছাড়াই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তাদের কাছে এখন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে আরও দাবি করেন, ইরানি শাসনে পরিবর্তন আনার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তবে বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় ইতোম মধ্যে পরিবর্তন ঘটে গেছে।
এদিকে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে গত এক দিনে ২৩টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’। বুধবার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ব্যাপক ড্রোন হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল, এ অঞ্চলে তাদের ওপর হওয়া যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
